সৌমিত্র রায়, ঋত্বিক প্রধান, ব্রতদীপ ভট্টাচার্য, কলকাতা : শুক্রবারের একটি ঘটনা। সারা রাজ্যের মানুষকে শিহরিত করেছে এই ঘটনা।  বর্ধমান শহরের একটি আবাসন থেকে STF-এর হাতে গ্রেফতার হয়েছে হামিম মণ্ডল নামে এক সন্দেহভাজন জঙ্গি। STF সূত্রে দাবি, পাকিস্তানের জঙ্গি শাহজাদ ভাটের গোষ্ঠীর সঙ্গে হামিমের যোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের আরও দাবি, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল। খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে ফলো করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বর্ধমান থেকে ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে। ধৃত জঙ্গির কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর লোকেশন সংক্রান্ত তথ্যও।  তদন্তকারীদের দাবি, হামিমের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর লোকেশন সংক্রান্ত তথ্যও উদ্ধার হয়েছে।

Continues below advertisement

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, দুবাইয়ে থাকা ISI-এর এক সদস্যকে মেসেজ করে হামিম জানতে চেয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি অনুসরণ করা হবে কি না। সেই মেসেজের সূত্র ধরেই STF হামিমের কাছে পৌঁছয় বলে দাবি তদন্তকারীদের। শুক্রবার এই বিষয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখন এটা নিয়ে আমার অন্তত কিছু বলা উচিত নয়। এটা STF বিশদে বলবে। আজকে PC নেবে বর্ধমানে। তারপর তাদের কাছে এলে, তারা আরও ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোকে অ্যাসেসমেন্ট করতে হবে। এটা তো ন্যাশনাল সিকিওরিটি। আমার একার কথা নয়।”

মুখ্যমন্ত্রীর বাবা তথা প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী জানিয়েছেন, এই ধরনের আশঙ্কার কথা নাকি আগেই গোয়েন্দাদের তরফে জানানো হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, “এটা আমরা ৩ মাস আগে থেকে জানতাম। ভারত সরকারের সিক্রেট সার্ভিস আমাদের অ্যালার্ট করেছিল। আর এরকম শুভেন্দুর উপর আক্রমণ হতে পারে এবং বাংলাদেশ থেকে বিরাট জঙ্গিগোষ্ঠী বাংলাদেশ হয়ে, অথবা পাকিস্তান হয়ে ভারতে ঢুকেছে এবং তারা নিশ্চয়ই বুদ্ধি দিয়ে শুভেন্দুবাবুকে টার্গেট করেছে।”

Continues below advertisement

মাত্র তিন মাসও হয়নি রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এর মধ্যেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে সরকার। কাঁটাতার বসানোর জন্য BSF-এর হাতে জমি তুলে দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। এই ঘটনার সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন, অন্য কেউ টার্গেটে ছিলেন। তৃণমূল আমলে নরমভাবে চলত, তার প্রশ্রয় পেয়ে সেফ করিডর করে তুলেছিল। এই সরকারের আমলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। হাতেনাতে প্রমাণ পেলেন।” অন্যদিকে, তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “কড়া নিরাপত্তা দরকার, পূর্ণ তদন্ত দরকার, সেনসিটিভ ব্যাপার। খালি মুখ্যমন্ত্রীর বিষয় নয়, রাজ্যে বিস্ফোরণও ঘটিয়ে দিতে পারত। একটা সময় বলা হত, এখানে জঙ্গিরা আস্তানা নিত, এখন একই ছবি দেখা যাচ্ছে।” বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ এবং মুখ্যমন্ত্রীর মুভমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত।

অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা ব্রিগেডিয়ার দেবাশিস দাস সীমান্ত পরিস্থিতি, বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এবং মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে ঘটনার গুরুত্বের কথা জানিয়েছেন। এদিকে, ধৃত হামিম মণ্ডলকে জেরা করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। তার যোগাযোগ, সংগঠনের কার্যকলাপ এবং সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।