সৌভিক মজুমদার, কলকাতা: শুক্রবার এজলাসে হৈ হট্টগোলে, জোড়া মামলার শুনানি পিছিয়ে দেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে ইডি এবং তৃণমূলের জোড়া মামলার শুনানি ১৪ তারিখ অবধি পিছিয়ে দেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। বুধবারই এই মামলার শুনানি আছে। এর আগে বড় সিদ্ধান্ত। 

Continues below advertisement

কাল রুদ্ধদ্বার শুনানির কথা জানান হয়েছে। আইপ্যাককাণ্ডে ইডি-তৃণমূলের জোড়া মামলার কাল হাইকোর্টে শুনানি হবে তবে তা 'ক্লোজড ডোর'। এজলাসে থাকতে পারবেন শুধু মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত আইনজীবীরা। কাল বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে মামলায় লাইভ স্ট্রিমিং-শুনানি হবে। 

ইতিমধ্যেই এই মামলার জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে ইডি তাঁদের পিটিশনে দাবি করেছে, শুনানি যাতে না হয়, তার জন্য প্রবল হৈ হট্টগোলের পরিবেশ তৈরি করা হয়। তার জেরে হাইকোর্ট মামলা শুনতে পারেনি এবং শুনানির উপযুক্ত পরিবেশ না থাকার কথা উল্লেখ করে, শুনানি পিছিয়ে দেন বিচারক। এই হৈ হট্টগোলে যে মুখ্যমন্ত্রীর সমর্থকরা যুক্ত, তা হোয়াটসঅ্য়াপ গ্রুপের মেসেজ থেকেই স্পষ্ট। যেখানে দলের সদস্যদের কোর্টে এসে জমায়েত করতে বলা হয়।' 

Continues below advertisement

এই ঘটনা নিয়ে নতুন অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। স্ক্রিনশট শেয়ার করে বিজেপির আইনজীবী নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারি অভিযোগ করেছিলেন, তৃণমূলের লিগাল সেলের গ্রুপে জমায়েতের বার্তা দেওয়া হয়। তার জেরেই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সেখানে তিনি লেখেন, শুক্রবার সকাল থেকে তৃণমূলের লিগাল সেলের বিভিন্ন গ্রুপে মেসেজ ছড়িয়ে দেওয়া হয়। যেখানে তৃণমূলের প্যানেল ভুক্ত আইনজীবীদের নির্দেশ দেওয়া হয়, শুনানির সময় ৫ নম্বর কোর্টে জমায়েত করতে। এর ফলে এজলাসে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, শুনানি করা যায়নি। তৃণমূল অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। 

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও একই অভিযোগ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, 'কলকাতা হাইকোর্টে বেলা আড়াইটেয় শুনানির সময় তৃণমূল কংগ্রেস লিগাল সেল কয়েকশো আইনজীবীকে জড়ো করে, কার্যত মাননীয়া বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে অচলাবস্থা তৈরি করেছিলেন, এই ঘটনার মূল দায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য। তাই কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানির পরিবশ নেই বুঝেই ED-র পক্ষ থেকে যে উদ্য়োগ নেওয়া হয়েছে, আমি মনে করি তা সঠিক।'            

এখন কাল কী হয় শুনানিতে সেদিকেই নজর সকলের।