সৌভিক মজুমদার, কলকাতা: বেলডাঙা-কাণ্ডে জোড়া মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। এর আগে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বেলডাঙার ঘটনার পরও, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের মামলায় উদ্বিগ্ন হাইকোর্ট। ৩০ ঘণ্টা ধরে বেলডাঙায় তাণ্ডব ঘিরে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের নির্দেশ দেন, 'মোতায়েন করা যেতে পারে মুর্শিদাবাদে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী। রাজ্য চাইলে বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা যেতে পারে। রাজ্য চাইলে বাহিনী দেবে কেন্দ্র'। 

Continues below advertisement

এদিন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, 'কেন্দ্র চাইলে NIA তদন্তের নির্দেশ। জনগণের সম্পত্তি, সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে রাজ্যকে। জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে মুর্শিদাবাদের SP, DM-কে।' বেলডাঙায় অশান্তি নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশে বলা হয়, 'ফোর্সের ব্যবহার নিয়ে বিপরীত আচরণ করছে রাজ্য ও কেন্দ্র। মানুষের জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত আদালত'। 

উল্লেখ্য, গত শনিবার, বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়ে, রাজ্যপালকে চিঠি লেখেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই চিঠিতে, মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে ধরেছিলেন বিরোধী দলনেতা। এদিকে, একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ ও সোশাল মিডিয়াতেও কড়া নজর রাখছে পুলিশ।

Continues below advertisement

অন্যদিকে, বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় আরও ৫ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ঘটনাস্থলের সিসি ফুটেজ ও বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে বেলডাঙা থানা সূত্রে খবর।ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্য়মৃত্য়ুর প্রতিবাদের নামে গত শুক্র ও শনিবার তাণ্ডব চলে বেলডাঙায়। আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, ভাঙচুর, ঘণ্টার পর ঘণ্টা রেল ও সড়ক অবরোধ, বাদ যায়নি কিছুই। 

এমনকী ঘটনাস্থলে খবর সংগ্রহে গিয়ে আক্রান্ত হন এবিপি আনন্দের সাংবাদিকও। সব মিলিয়ে কার্যত নৈরাজ্যের পরিস্থিতি তৈরি হয় বেলডাঙায়। ঘটনার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। বেলডাঙায় তাণ্ডবের ঘটনায় নতুন করে ৫ জনকে গ্রেফতার করায়, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৬-এ।

এদিকে, বেলডাঙার এই তাণ্ডবের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে ৭ বছর আগের কথা। ২০১৯ সালে CAA-র প্রতিবাদের নামে ঠিক এরকমই নৈরাজ্য চলে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বেলডাঙা স্টেশনে। সেকথা মাথায় রেখে, শুক্রবার শুরুতেই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনা হল না কেন? কী করছিল পুলিশ? সেই প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। অশান্তির আগুন কেন বারবার গ্রাস করে বেলডাঙাকে? নেপথ্যে কাদের প্রশ্রয়? কাদের উস্কানি?