প্রকাশ সিনহা, কলকাতা : পুর নিয়োগে দুর্নীতি মামলায় চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিল CBI। চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে IAS জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়কে। দুর্নীতির সময় DLB বিভাগের ডিরেক্টর ছিলেন তিনি। ৮টি পুরসভায় ৬০০-র বেশি বেআইনি চাকরি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে চার্জশিটে। উত্তর ও দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরানগর-সহ ৮ পুরসভায় 'চাকরি-দুর্নীতি'-র কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি আধিকারিকরা একাধিক প্রভাবশালীর বাড়ি-অফিসে গিয়ে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিলেন। তাঁদের নাম এই চূড়ান্ত চার্জশিটে দেখা গেল না।
বিস্তারিত...
আলিপুর কোর্টে সিবিআই স্পেশাল কোর্টে চূড়ান্ত চার্জশিট জমা পড়েছে। চার্জশিটে IAS জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। তাঁকে অভিযুক্ত হিসাবে দেখানো হয়েছ। চার্জশিটে সিবিআই উল্লেখ করেছে, বর্তমানে তিনি হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনের সেক্রেটারি পদে রয়েছেন। সিবিআইয়ের তরফে দাবি করা হচ্ছে, যে সময়ে এই দুর্নীতি হয়েছিল, সেই সময় তিনি DLB ডিরেক্টর হিসাবে ছিলেন। চার্জশিটে জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায় ছাড়া অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে অয়ন শীলের সংস্থা ABS ইনফোজোন প্রাইভেট লিমিটেড। মোট ৬০০-র বেশি বেআইনিভাবে চাকরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
২০২৩ সালের ২১ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন, পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে প্রয়োজনে FIR দায়ের করে তদন্ত করতে পারবে CBI। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্য়ায়ের রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হয়। সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়ে ওই মামলা হাইকোর্টে ফেরত পাঠায়। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস থেকে এই মামলা বিচারপতি অমৃতা সিন্হার এজলাসে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু হাকিম বদলালেও হুকুম বদলায়নি। ১২ মে বিচারপতি অমৃতা সিন্হা জানিয়ে দেন, পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডের তদন্তে করবে সিবিআই।
মজদুর, ক্লার্ক, পিয়ন, অ্য়াসিস্ট্যান্ট থেকে শুরু করে ড্রাইভার- সর্বত্র টাকার বিনিময়ে নিয়োগের অভিযোগ ওঠে। ২০১৪ সালের পর থেকে বিভিন্ন পুরসভায় কীভাবে নিয়োগ হয়েছে, কতজনকে নিয়োগ করা হয়েছে, নিয়োগ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল কি না, কী পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধাপে বাছাই হয়েছে, কোন কোন প্রার্থীকে বাছাই করে হয়েছিল, কীসের ভিত্তিতে বাছাই করা হয়েছিল, কী প্রক্রিয়ায় গোটা নিয়োগ হয়েছিল, বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় কারা জড়িত ছিলেন, তদন্তে নেমে সবই খোঁজার চেষ্টা করেন সিবিআই আধিকারিকরা। এরপরই রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন পুরসভায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সি।