সুকান্ত মজুমদার, রঞ্জিত সাউ ও অনির্বাণ বিশ্বাস, কলকাতা : বেআইনি বহুতল কারা তৈরি করেছে ? মালিকানাই বা কার ? নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে সিবিআই। শনিবার ফের রাজাবাজারের ৪টি বহুতলে অভিযান চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
হাইকোর্টের নির্দেশে কলকাতায় বেআইনি বহুতলের খোঁজে নেমেছে CBI. শনিবার রাজাবাজারের ৪টি ঠিকানায় অভিযান চালালেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। অভিযোগ, গত কয়েক বছরে বেলেঘাটা, মানিকতলা, রাজাবাজার, ক্যানেল ইস্ট রোড সংলগ্ন এলাকায় আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাথা তুলেছে ৫০-এর বেশি বহুতল।
এই অভিযোগে সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। গত ১১ সেপ্টেম্বর, প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। মামলাকারীর আইনজীবী মৈনাক বসু দাবি করেন, কেবল নিয়ম ভেঙে বহুতল তৈরিই নয়, এই রিয়েল এস্টেট কারবারের পেছনে রয়েছে বিপুল অঙ্কের বেআইনি লেনদেন। এসব বহুতলের প্রোমোটিংয়ের পিছনে রয়েছে কালো টাকা সাদা করার একটা চক্র। বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রা রূপান্তরের মতো মারাত্মক অভিযোগও। এই বহুতলগুলির পিছনে কয়েক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি রয়েছে বলেও কলকাতা হাইকোর্টের সামনে দাবি করেন মামলাকারীর আইনজীবী।
এরপরই CBI তদন্তের নির্দেশ দেয় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। শনিবার রাজাবাজারের কেশবচন্দ্র সেন স্ট্রিটে একাধিক বহুতলে অভিযান চালায় CBI। রাজাবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা শ্রীপতি ধরকে প্রশ্ন করা হয়, কী জানতে চাইল ? উত্তরে তিনি বলেন, "কারা থাকত, কোথায় গেল, এগুলোই। এবার যারা ছিল পুলিশ, লালবাজার এসে পুরো উপর থেকে নীচে অবধি ভেঙে দিয়েছে। বেআইনি বাড়ি।" রাজাবাজারের অপর এক বাসিন্দা রাকেশ সিং বলেন, "বেআইনি তো কলকাতায় একটা বাড়ি নয়, অনেক বাড়ি আছে।"
প্রশ্ন উঠেছে, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কীভাবে এত বেআইনি নির্মাণ গড়ে উঠল ? এ প্রসঙ্গে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস-এর বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, "যদি কোনও বেআইনি নির্মাণ থাকে, তো সেগুলো নিশ্চিতভাবে তদন্ত হওয়া উচিত কিন্তু সেটা বিভিন্ন জায়গায় দেখে দেখে তদন্ত, কসবার যে মুখ্য়মন্ত্রী বলেছিলেন ৮০ থেকে ৯০টা একজন বাবা ছেলের নাম বলেছিলেন মুখ্য়মন্ত্রী। সেখানে তো CBI-এর প্রায়োরিটি দিয়ে যাওয়া উচিত। CBI সেখানে যাচ্ছে না কেন আগে?বড়বাজারেও তো যেতে হবে, কসবায় তো যেতে হবে।" ১৪ অক্টোবরের মধ্যে CBI-কে এই সংক্রান্ত প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
