'কেউ ছাড় পাবেন না, কেউ রেয়াত পাবেন না।' বিজেপি সরকারের পুলিশকে এই ভাষাতেই হুঁশিয়ারি দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২ বছর পরে দেখে নেওয়ার হুঙ্কারও দিলেন মমতা তৃণমূলের সাংসদ। আপ্ত সহায়কের প্রসঙ্গ তুলে পাল্টা আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রীও। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রীও হুঁশিয়ারি দিলেন, 'সোডিয়াম, পটাশিয়ামের গোলমাল হয়েছে, নিউইয়র্কে যাক, আমরা NOC-দিয়ে দেব'। আর এই আকচা আকচির আবহে ফের একবার উঠে এল শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্ত সহায়কের খুনের প্রসঙ্গ। নির্বাচনের ফল বেরনো ও নতুন সরকার গঠনের মাঝেই নৃশংস ভাবে খুন হন চন্দ্রনাথ। তাঁর হত্যার পিছনে মাস্টারমাইন্ড কে - এই নিয়ে বড় দাবি করলেন শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার সদস্য অর্জুন সিংহ। চন্দ্রনাথ রথের খুনের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে হুঁশিয়ারি দেন পরিবহণমন্ত্রী।
তিনি বলেন, 'অভিষেক ব্যানার্জি হতাশায় চন্দ্রনাথ রথকে মারিয়েছিল, হতাশায়। ওর কাছেও পৌঁছে যাবে CBI, যা তদন্ত চলছে। অভিষেকের কাছে। অভিষেক ব্যানার্জি যাই বলছে, সব হতাশা থেকে বলছে। ভাবছে কী এই বলে আমি বেঁচে যাব। কিন্তু ও বাঁচবে না। ওর বিরুদ্ধে যেভাবে তদন্তের অগ্রগতি হচ্ছে, ও জেলে যাবে।'
মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ঘনিষ্ঠ ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারির পর বৃহস্পতিবার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। আর তার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বারুইপুর থেকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন মুখ্য়মন্ত্রী। বলেন, 'আপনাদের মনে প্রশ্ন আছে, বড় চোরটা কবে যাবে? সময় একটু ঠিকঠাক দেখে করতে হয় বুঝেছেন তো। আমার রাজনৈতিক জীবনে ধৈর্য আর সহ্য়, আপনারাও দয়া করে এটা পালন করুন। বড় চোর যাবে, চিন্তার কোনও কারণ নেই। ' সব মিলিয়ে বাগ্যুদ্ধে সরগরম রাজ্য় রাজনীতি।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ঠিক দু’দিনের মাথায়, ৬ মে গুলি করে খুন করা হয় চন্দ্রনাথকে। প্রায় সাড়ে চার মাস পর সেই চন্দ্রনাথ রথের মা-কে নিজের ছেড়ে দেওয়া নন্দীগ্রাম আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী করে, শুভেন্দু অধিকারী চাঞ্চল্য়কর অভিযোগ করেন, "২ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে ওকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য় এই টাকা সরবরাহের কাজ ভাইপো গ্য়াংয়েরা করেছে। ডায়মন্ড হারবারের অনেকের কল রেকর্ড, যারা টাকা বয়ে দিয়ে এসেছিল শ্য়ুটারকে সুপারি কিলারকে আমি শুনেছি তথ্য় সূত্রে।"
মুখ্য়মন্ত্রী ভাইপো বলে, এই আক্রমণ শানিয়েছিলেন। তিনি ডায়মন্ড হারবারের কথাও বলেন। তবে বিজেপিরই বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী এর আগে সরাসরি নামও বলে দিয়েছিলেন এই বিষয়ে । গত ৭ মে, তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন, "চন্দ্রদাকে মারার মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু বাবুর উদ্দেশে মেসেজটা দিলেন। ভবানীপুরের হার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হজম করতে পারছেন না। পিসি-ভাইপো দুজনে মিলেই এই রাজ্যের হারটাকে হজম করতে পারছেন না।"
এখন দেখার চন্দ্রনাথ রথের খুনের তদন্তে একাধিক গ্রেফতারির পর আসল মাস্টার মাইন্ডের নাম সামনে আসে কি না।
আরও পড়ুন : জেলা থেকে জেলা, সব খবরের লাইভ আপডেট
