কলকাতা: দুর্গাপুজোর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে বড়সড় বিপত্তি। ঠাকুর দেখতে আসা দর্শনার্থীদের বিপুল ভিড়ের চাপে মণ্ডপ চত্বরে তৈরি হয় পদপিষ্ট হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। হুড়োহুড়িতে আহত হন একাধিক দর্শনার্থী। তাঁদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে প্রাথমিক সূত্রে খবর। এখনও পর্যন্ত খবর ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও ১৫ জনের আশঙ্কাজনক অবস্থা।  

Continues below advertisement

ভিড়ের চাপে বিপত্তি, কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে ঠাকুর দেখতে মানুষের ঢল নামে। ভিড়ের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে মণ্ডপ চত্বরে কার্যত তিল ধারণের জায়গা ছিল না। সেই সময়েই বিপত্তি ঘটে। মণ্ডপের গেটের একটি অংশ ভেঙে পড়ার খবর সামনে এসেছে। অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

Continues below advertisement

আচমকা এই ঘটনায় মণ্ডপ চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। ভিড়ের মধ্যে অনেকে পড়ে যান বলে খবর। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয় চিকিৎসার জন্য।

মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহতরা

দুর্ঘটনার পর একাধিক আহতকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা যাচ্ছে। তবে মৃতের সংখ্যা নিয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও সরকারি তথ্য সামনে আসেনি। তাই হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপরতা শুরু হয়। ভিড় সামলানোর জন্য আপাতত মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন

এই ঘটনার পর চোরবাগান সর্বজনীনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের একাংশের অভিযোগ, মণ্ডপে বিপুল ভিড়ের কারণে আগে থেকেই বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে কীভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতি ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

চোরবাগান সর্বজনীনের এই ঘটনায় পুজোর আনন্দের মাঝেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং আহতদের চিকিৎসার বিষয়টিতে নজর রাখা হচ্ছে।