মনোজ বন্দোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: বড়দিনের (Christmas 2025) সকালে দুর্গাপুরে এ যেন একেবারে অন্য ছবি। সান্তা ক্লজের পোশাক পরে হাজির মন্ত্রী। স্থানীয় একটি বস্তি থেকে শুরু করে কবাডি ক্লাব, যোগা ক্লাব ঘুরে বেড়ালেন তিনি, বাচ্চাদের দিলেন উপহার।
বৃহস্পতিবার, সকাল হতে না হতেই মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার পৌঁছে যান দুর্গাপুরের তালতলা বস্তিতে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী। কাঁধে ছিল ঝোলা, মুখে আন্তরিক হাসি, যেন রূপকথার গল্পের সেই পরিচিত সান্তা ক্লজ। মন্ত্রী পরিচয় আড়াল করে তিনি একে একে শিশুদের হাতে তুলে দেন খেলনা, চকোলেট, খাবার আর সঙ্গে ছিল নানারকমের উপহার।
বড়দিনে উপহার পেতে কার না ভাল লাগে। স্বাভাবিকভাবেই তাই হঠাৎ এমন উপহার পেয়ে আনন্দে আত্মহারা খুদেরা। কারও চোখে বিস্ময়, কারও মুখে হাসি, আবার কেউ কেউ খুশিতে চিৎকারই করে ওঠে। বড়দিনের সকালে তালতলা বস্তির অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের রোশনাই, ভালোবাসার উষ্ণতা। এই মানবিক উদ্যোগ শুধু উপহার বিলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী, তাদের পড়াশোনা ও স্বপ্নের কথাও মনযোগ দিয়ে শোনেন।
বড়দিনের সকালে তাঁর এই নীরব উপস্থিতি যেন মনে করিয়ে দেয় উৎসবের আসল মানে শুধু আলো-সাজে নয়, বরং উৎসবের আসল মজা মানুষের পাশে দাঁড়ানোতেই, আনন্দ ভাগ করে নেওয়াতে। বৃহস্পতিবার বড়দিনে প্রদীপ মজুমদারের এই শান্ত, নিঃশব্দ উদ্যোগ দুর্গাপুরবাসীর কাছে হয়ে উঠল এক সহানুভূতির বার্তা। ভালোবাসাই সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি, তা নিজের এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণ করে দিলেন প্রদীপ মজুমদার।
প্রসঙ্গত, বড়দিনেই পারদ পতনে রেকর্ড। আজ মরশুমের শীতলতম দিন। এ মরশুমে প্রথমবার ১৪-র নীচে নামল পারদ। আজ কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী দিনে ধাপে ধাপে আরও কিছুটা কমতে পারে তাপমাত্রা। পাহাড় ও পশ্চিমের জেলাগুলোতেও শীতের কাঁপন।
বড়দিনের সকালে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেল সমগ্র দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা। এই শীত মরসুমে আজই সবথেকে বেশি এবং ঘন কুয়াশা পড়ল এই জেলায়। ভোর থেকেই জেলা জুড়ে কুয়াশার দাপট এতটাই ছিল যে দৃশ্যমানতা মাত্র ৫০ থেকে ৭০ মিটারে নেমে আসে।