কলকাতা : ভোট প্রচারে উস্কানিমূলক ভাষণ দেওয়ার অভিযোগ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছে গেল CID। কালীঘাটের পটুয়া পাড়ায় অভিষেকের বাড়িতে রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা। বিধায়কদের সই জালিয়াতির পরে এবার উস্কানিমূলক ভাষণের অভিযোগ। ৪টে ৪০ মিনিট নাগাদ সিআইডি আধিকারিকরা তৃণমূল নেতার পটুয়াপাড়ার বাড়িতে পৌঁছান। এটা বাগুইআটি থানায় দায়ের হওয়া মামলা। যার তদন্ত করছে সিআইডি। মাঝে এই তদন্তভার গিয়েছিল বিধাননগর সাইবার থানার কাছে।

Continues below advertisement

অভিযোগকারী দাবি করেছিলেন যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন যে ৪ তারিখ ভোটের ফল বেরনোর পর ডিজে বাজবে। এই ডিজে বাজানো কী অর্থে ব্যবহার করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ? এটাই অভিযোগকারীর দাবি। সেই তদন্ত বিধাননগর সাইবার থানা থেকে সিআইডি-র হাতে আসে। তাদের হাতে আসার পর সেই কেসে সিআইডি অভিষেককে নোটিস দিতে এসেছে।

সিআইডি আধিকারিকরা তৃণমূল নেতার হাতেই নোটিস তুলে দিতে চান। কিন্তু, ৩টে ৫৫ মিনিট নাগাদ অভিষেক তাঁর পটুয়াপাড়ার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। অভিষেকের অফিস স্টাফরা জানান, তৃণমূল নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গেছেন। এরপর সেখানে সিআইডিকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

Continues below advertisement

অভিযোগকারী রাজীব সরকার বলেছিলেন, "মূলত অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে, তাঁরা যে ভাষাগুলো ব্যবহার করছেন তাদের বিরুদ্ধে। সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে শুরু। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেটা বলেছিলেন যে, ২০২৬ সালে ভোটের পর, ৪ মে-র পরে উনি ডিজে বাজাবেন। উনি রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে ডিজে বাজাবেন। ওঁর যে শরীরী ভাষা ছিল তাতে গান বাজানোর কথা উনি বলেননি এবং তারজন্য মানুষ যে হাততালি মেরেছিলেন সেটা কিন্তু গান বাজানোর জন্য বলা হয়নি। সেটা মানুষ মানুষের মধ্যে বিভেদ এবং রাহাজানি এবং হত্যা-এই তিনটের জন্যই উনি বলেছিলেন।" 

দল শেষ। সংগঠন শেষ। ক্ষমতা শেষ। দাপট শেষ। কর্তৃত্ব-নেতৃত্ব সবটাই অতীত। এই পরিস্থিতিতে সই জালিয়াতিকাণ্ডে অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশে CID দফতরে হাজিরা দিতে হয় অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে। গতকাল বিমানবন্দর থেকে, কালীঘাটে নিজের বাড়ি হয়ে পৌঁছান ভবানীভবনে। এর মাঝেও অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে ঘিরে উঠল চোর স্লোগান।

এই মামলার তদন্তে, ১ জুন, ৮ জুন, ৯ জুন... তিনবার অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে হাজিরার নোটিস দিয়েছে CID। কিন্তু একবারও হাজিরা দেননি তিনি... বরং, রক্ষাকবচ চেয়ে দ্বারস্থ হন হাইকোর্টের। বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৌশিক চন্দ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তদন্তে সহযোগিতা করলে তবেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রক্ষাকবচ দেওয়া হবে। সন্ধে ৬টার মধ্য়ে তাঁকে ভবানীভবনে হাজিরার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। 

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪.১৭। দিল্লি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। এরপর বাড়িতে পৌঁছন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। সেখান থেকে রওনা হন ভবানীভবনের উদ্দেশে। ৫ টা ৪৯ মিনিটে ভবানীভবনে ঢোকেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। দীর্ঘক্ষণ অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি।