কলকাতা: এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে CID. অভিষেকের শান্তিনিকেতনের বাড়িতে CID-র অধিকারিকরা। অভিষেকের বাড়ি 'শান্তিনিকেতনে'র দরজা বন্ধ। বাইরে অপেক্ষা করছিলেন CID-র পাঁচ আধিকারিক। শনিবার CID আধিকারিকরা যখন পৌঁছন, সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না অভিষেক। দরজা বন্ধ ছিল ভিতর থেকে। সেই সময় ভিতর থেকে একজন বেরিয়ে আসেন। জানান, অভিষেক বাড়িতে নেই। ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় লিখে নেন। ঘটনাচক্রে আজ থেকেই অভিষেক রাস্তায় নামতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছিল। সেই আবহেই এই ঘটনা। বিধানসভার সইকাণ্ডে অভিষেককে নোটিস দিতেই পৌঁছন CID আধিকারিকরা। (CID in Abhishek Banerjee's House)
শনিবার দুপুরে কালীঘাটে 188A হরিশ মুখার্জি রোডে অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছন CID আধিকারিকরা। বেশ কিছু ক্ষণ বাইরে অপেক্ষা করেন তাঁরা। ভিতর থেকে এক ব্যক্তি বেরিয়ে আসেন কিছু ক্ষণ। তিনি জানান, অভিষেক বাড়িতে নেই। তিনি কোথায় আছেন, তাও জানা নেই তাঁর। তাঁরা কয়েকজন কর্মীই এই মুহূর্তে বাড়িতে আছেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, "স্যর অত্যন্ত দুঃখিত। বাড়িতে কেউ নেই। আমার ধারণার বাইরে কোথায় আছেন। ম্যাডাম, বাচ্চারা কোথায় আছেন...। আমি স্যর এই বাড়িতে কাজ করি। উনি এখানে থাকেন, কখনও আসেন, পার্টি অফিসেও থাকেন। কোনও ঠিক নেই।" (TMC News)
সংবাদমাধ্যমে ওই ব্যক্তি বলেন, "আমি বাড়ির একজন কর্মী। বাড়িতে কেউ নেই। আমরা দু'-একজন স্টাফ আছি শুধু। আমরা বাড়িতেই থাকে। ওঁরা জানতে চেয়েছিলেন স্যর আছেন কি না। আমি বললাম, উনি নেই। কোথায় আছেন জানি না।" গত কয়েক দিনে অভিষেক 'শান্তিনিকেতনে' আসেননি বলে জানান ওই ব্যক্তি। শেষ বার কবে এসেছিলেন অভিষেক জানতে চাইলে জানান, গত কয়েক দিনে দেখেননি অভিষেককে। পরে ফের বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন তিনি। গাড়িতে গিয়ে কথা বলেন CID আধিকারিকদের সঙ্গে। কী কথা হল জানতে চাইলে বলেন, "অফিসে যেতে বললাম আমি।"
আরও পড়ুন: ফের টাকার চেহারা বদল? কাগজ নয়, এবার প্লাস্টিকের নোট চালুর ভাবনা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের।
'শান্তিনিকেতনে' অভিষেককে না পেয়ে, তাঁর অন্য বাড়িতে যাবেন কি না, জানতে চাওয়া হয়েছিল CID আধিকারিকদের কাছে। কিন্তু সেই নিয়ে কিছু খোলসা করতে চাননি তাঁরা। বিধানসভার সইকাণ্ডের তদন্ত করছে CID. তৃণমূলের বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়িতেও এর আগে পৌঁছন রাজ্যের গোয়েন্দারা। সেই মতো পাঁচ আধিকারিক আজ অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছন। বোলেরো গাড়িতে চেপে সেখানে পৌঁছন তাঁরা। কিন্তু অভিষেক বা তাঁর পরিবারের কেউ সেখানে ছিলেন না।
বিতর্কের সূচনা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা ঠিক করা নিয়ে। তৃণমূলের পরিষদীয় দলের নেতারা একটি প্রস্তাব সই করে স্পিকারের কাছে জমা দিয়েছিলেন। সেই সই জাল হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই নিয়ে বিধানসভার সচিবের তরফে হেয়ার স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। এর পর তদন্তের দায়িত্ব নেয় CID. হ্যান্ড রাইটিং এক্সপার্ট নিয়ে জায়গায় জায়গায় পৌঁছচ্ছেন তদন্তকারীরা। এবার অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছলেন। এখনও অপেক্ষা করছেন CID আধিকারিকরা।
বিধানসভার বিধায়ক নন অভিষেক। বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করেন বিধায়করা। তাহলে অভিষেককে নোটিস কেন? জানা যাচ্ছে, শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়কে বিরোধী দলনেতা করতে তৃণমূলের ৭০ জন বিধায়ক যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তার নীচে আবার সাংসদ হিসেবে প্রস্তাবে সই ছিল অভিষেকের। সেই কারণেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা, বয়ান রেকর্ড করা প্রয়োজন বলে মনে করছে CID.
এর আগে, গত ২৫ মে অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশ। পুরসভার নোটির পর পরই। পাশাপাশি, বিধাননগর এবং ভবানীপুর থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগে ২ মে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে মন্তব্য করেছিলেন অভিষেক, তাতে তিনি গুজরাতিদের অপমান করেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ দায়ের করেন ভবানীরপুরেরই এক বাসিন্দা।
