নয়াদিল্লি: আটক হয়েছিলেন রাতেই। তারপর গ্রেফতার । আর এবার বিচারবিভাগীয় হেফাজত। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যন্তর মন্তরে গেট টপকে ঢুকে পড়ার পরই CJP নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং অজিঙ্ক শিন্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের জারি করা নির্দেশ অনুসারে, এখন যন্তরমন্তরে কোনওরকম প্রতিবাদ কর্মসূচিই করা যাবে না। এর মধ্যেই মঙ্গলবার যন্তরমন্তরে প্রবেশ করে বিক্ষোভ দেখান সিজেপি নেতারা। যন্তরমন্তরে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে  মঙ্গলবারই CJP-র নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং অজিঙ্ক শিন্ডেকে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। বুধবার সকালে তাঁদের ৩ জনকেই   প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট দেখানো হয়। শেষ পাওয়া খবর অনুসারে , বুধবার  আদালত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে।

Continues below advertisement

ককরোচ জনতা পার্টির ধৃত ৩ নেতাকে সকালেই পেশ করা হয়েছিল SEM কোর্টে । SEM কোর্ট থেকে তিহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয় আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসকে। আরেক CJP নেতা অজিঙ্কা শিন্ডকে শর্তাধীন জামিনে মুক্ত করা হয়েছে। শিন্ডেকে ৫,০০০ টাকা ও মুচলেকা দিয়ে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

যন্তর মন্তরে আর কোনও প্রতিবাদ দেখানো যাবে না। এই নিয়ম জারির ১ দিন পরই ১৩ই অক্টোবর সেখানকার গেট টপকান সিজেপি নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং অজিঙ্ক্য শিন্ডে। পরে দিল্লি পুলিশ তাঁদের আটক করে। অভিযোগ , মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত নেতাদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।  দিল্লি পুলিশ জানায়, CJP-র নেতাদের ‘Preventive Arrest’ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যন্তর মন্তরে প্রবেশ, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া-সহ একাধিক অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এরপর বুধবার তাঁদের প্রথমে গ্রেফতার দেখানো হয়, তারপর আদালতে পেশ করা হয়। 

Continues below advertisement

পুলিশের এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযুক্তদের আইনজীবী অভিষেক হেলা। আদালত থেকে বেরিয়ে, তিনি জানান, আশুতোষ , সৌরভরা মানুষকে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার জন্য তাতিয়েছেন। কিন্তু এমন কোনও ডাক তাঁরা দেননি। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ শুধুমাত্র আশঙ্কার ভিত্তিতেই দুই নেতাকে হেফাজতে পাঠিয়েছে। অথচ তাঁরা মুচলেকার কোনও শর্ত ভাঙেননি। আইনজীবী অভিষেক হেলার দাবি, কনট প্লেসের একটি পৃথক অভিযোগকেও এর সঙ্গে যুক্ত করেছে পুলিশ।   সেই অভিযোগ অপব্যবহার করেই তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। 

এই খবর সামনে আসতেই সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, দেশে জরুরি অবস্থা জারি করতে চাইলে সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে করুন। যন্তর মন্তরে ভারতের পতাকা ওড়ালে তাদের কাপুরুষের মত পাকড়াও করা হচ্ছে। দেশের জাতীয় পতাকা ওড়ানো কবে এদেশে পাপ হল? প্রশ্ন তোলেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা। 

অন্যদিকে রাহুল গান্ধী এদিন এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন, '' যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে তেরঙা পতাকা ওড়ানোটা কোনও অপরাধ নয় । এই কারণে তরুণদের জেলে পাঠানোটা কাপুরুষদের কাজ '' ।