কলকাতা: পালাবদলের রাজ্যের নতুন শিল্প নীতি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। শিল্পপতিদের উপস্থিতিতে শিল্প নীতি ঘোষণা করলেন তিনি। পাশাপাশি নিয়োগকারীদের পশ্চিমবঙ্গে আসতে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।  এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, 'এখন রাজ্যের পরিস্থিতি বদলে গেছে। আগে রাজ্যের কোনও জমি নীতি ছিল না। বাম আমলে ধ্বংসাত্মক শ্রমিক আন্দোলন দেখেছে রাজ্য। তৃণমূল আমলে রুজির টানে রাজ্য ছেড়েছেন শ্রমিকরা। রাজ্যে ২ কোটির বেশি শিক্ষিত বেকার। কেন শিল্পের জন্য সরাসরি জমি কিনবেন শিল্পপতিরা? রাজ্য সরকার জমি নীতি তৈরির কাজ চলছে। এখন তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, কাটমানি বন্ধ হয়ে গেছে। সংকল্পপত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে বদ্ধপরিকর বিজেপি। বিজেপি কোনও পরিবারতান্ত্রিক দল নয়। এখন ভয় আউট, ভরসা ইন, পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করুন শিল্পপতিরা।'

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, “বাদ যাবে না শিলিগুড়িও, জায়গা দেখছি, IIT, IIM, একটা কিছু তো দিতে হবে শিলিগুড়িকে”, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

প্রশ্ন: এটাই কি বার্তা দেওয়া হল, মেধার সঙ্গে আপোস করা হবে না ?  

Continues below advertisement

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নানা, এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে, ব্যবসা হত। প্রাইভেট আইটিআই-গুলিতে, অ্যাডমিশন নিয়ে, ২ লাখ টাকা নিয়ে আসত, সার্টিফিকেটটা নেওয়ার জন্য। কোনও প্রশিক্ষণ নেই, কোনও ফ্যাকাল্টি নেই। কোনও লাইব্রেরি নেই। ল্যাব্রটারি নেই। কোনও কিছু হয় না। স্বাবাভিকভাবে এইগুলি তো আশা করা উচিত না। মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে, ব্যবস্থা বদলের জন্য, শুধু মুখ বদলের জন্য না। …পূর্বে বামেরা এবং তৃণমূল মিলে সব ধ্বংস করে দিয়েছে।আমি পশ্চিমবঙ্গ পুনর্নিমাণের চেষ্টা করছি। আমি সব নিয়োগকারী ব্যবসায়ী গ্রুপদের অনুরোধ করছি, পশ্চিমবঙ্গে আসুন। এবং নিয়োগ করুন। ….কোথাও কাজ বন্ধ করে কিছু হবে না। দাবি দাওয়া চলবে। তার জন্য লেবার কমিশনার আছে, আমরা আছি, পুলিশ আছে। কাজ বন্ধ করবেন যে, তার কাজ যাবে। রাস্তা থেকে তোলা, তোলা বন্ধ করেছি। আর কোনও কারখানার গেটে, ঝামেলা করলে ১৫ মিনিটের মধ্য়ে জেলে যেতে হবে। এবং অনেকদিন জেলে থাকতে হবে। তার ব্যবস্থা হবে।’

পশ্চিমবঙ্গের বাণিজ্য়ে লক্ষ্মী আনতে লক্ষ্মীবারেই নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করল বিজেপি সরকার।বড় শিল্পের জন্য় একলপ্তে প্রয়োজন প্রচুর জমি। শিল্পনীতি ঘোষণা করেই মুখ্য়মন্ত্রী শুভেনদু অধিকারী তাঁর সরকারের জমি নীতি স্পষ্ট করে দিলেন। বুঝিয়ে দিলেন, জমির কোনও অভাব হবে না।মুখ্যমন্ত্রী বলেন,আমরা অনেক সরকারি জমি উদ্ধার করেছি এবং বিগত সরকারের দেওয়া জমি ফেলে রেখেছেন, তাদের বলেছিল ৩ মাসের মধ্য়ে আপনি যদি সাড়া না দেন, প্রক্রিয়া শুরু না করেন, আমাদের ফেরত দিয়ে দিন। যে টাকায় আপনি জমি কিনেছিলেন, আমরা ওই টাকা আপনাদের ফেরত দিয়ে দিচ্ছি এবং আমরা জমি কেনার জন্য় তহবিলের ব্য়বস্থা করছি। আমরা হাডকোর সঙ্গে, নাবার্ডের সঙ্গে ADBI-এর সঙ্গে, অন্য়ান্য় বড় ব্য়াঙ্কের সঙ্গে কথা বলছি। যাতে আমরাও নিজেরা জমি কিনে ল্য়ান্ডব্য়াঙ্ক তৈরি করতে পারি। এই মুহূর্তে যা প্রস্তাব আছে, আর যা চাহিদা আছে, আমরা সেটা দিয়ে দিতে পারব।