শিবাশিস মৌলিক, সমীরণ পাল ও সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: '৩৪ বছরের লাল-রাজত্বে আমাদের ঐতিহ্য ভুলিয়ে দিয়েছিল। তাদের স্টলে মিলবে না বিবেকানন্দর বই, গীতা থেকে হনুমান চল্লিশা। পাবেন শুধু মার্কস-লেনিনের বই'। পুজোর স্টল নিয়ে ফের বামেদের আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীকে পাল্টা জবাব দিয়েছে বামেরা।
আরও পড়ুন, পিতৃপক্ষে পুজোর উদ্বোধন নিয়ে মমতাকে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর, যা বললেন..
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যাঁরা পুজো লিখতে দেবে না, যাঁরা আমাদের পঞ্জিকা, শাস্ত্র, ঐতিহ্য়, পুরোহিত, মন্ত্রোচ্চারণ পরম্পরা সব কিছু ভুলিয়ে দিয়েছিল ৩৪ বছরের লাল রাজত্বে, তাঁরা দুর্গাপূজা লিখবে না। ' পুজোর বাকি মাসখানেক। এই আবহে বামেদের পুজোর বইয়ের স্টল নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।বিধানসভার পর শনিবার ফের দুর্গাপুজোয় বইয়ের স্টল নিয়ে বামেদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তাঁরা মহালয়া শুনবে না। তাঁরা মণ্ডপে প্রবেশ করে মাকে আরতি করবে না। তাঁরা প্য়ান্ডেল থেকে দূরে একটা লাল সালু লাগিয়ে বসত। সেখানে যে বইগুলো থাকত, একটাও স্বামী বিবেকানন্দের বই পাবেন না। একটাও লোকেশ্বরানন্দজির বই পাবেন না। একটাও উদ্বোধন প্রকাশনের বই পাবেন না। সেখানে হাজার খুঁজলেও পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাস সম্পর্কে আপনি জানতে পারবেন না। দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়েছিল। মহম্মদ আলি জিন্না আর নেহরু ভাগ করেছিলেন। আপনি বিদেশি কার্ল মার্কসের বই পাবেন। আপনি লেনিনের বই পাবেন। হাজার চেষ্টা করলেও আপনি হনুমান চালিশা, গীতা পাবেন না। এনিয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে সিপিএম। ফেসবুকে সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ লিখেছেন, দেখলাম শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, সিপিএমের বইয়ের স্টলে মার্ক্স, লেনিনের বই পাওয়া যায়, বিবেকানন্দর বই পাওয়া যায় না। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে দুটো তথ্য দিতে চাই। এক, সিপিআই(এম)-এর স্টলে বিবেকানন্দর লেখা এবং বিবেকানন্দকে নিয়ে লেখা, এই দুই ধরনেরই একাধিক বই পাওয়া যায়। দুই, আজ থেকে প্রায় ১২০বছর আগে বাঙালিকে প্রথম মার্ক্স, লেনিনের বই পড়তে শিখিয়েছিলেন যিনি, তিনি হলেন স্বামী বিবেকানন্দের নিজের ভাই, বিপ্লবী ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত।পুজোর সময় বামপন্থীদের বইয়ের স্টল দেওয়ার রেওয়াজ দীর্ঘদিনের। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় প্রথম তা নিয়ে হুঁশিয়ারির সুর শোনা যায় শুভেন্দু অধিকারীর গলায়। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন,'দুর্গাপুজো বলেন না, শারদোৎসব! আমি সব দুর্গাপূজা কমিটিকে বলব, এই তথাকথিত কমিউনিস্টরা পুজোর স্টল করতে গেলে শারদোৎসবের জায়গায় যদি দুর্গাপুজো না লেখে, একটা স্টলও করতে দেবেন না।' শনিবার গণেশপুজোর উদ্বোধনে গিয়ে, ফের একই সুরে বামেদের নিশানা করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই সনাতন এবং ধর্মীয় পরম্পরা, এই ঐতিহ্য় আমাদেরকে যাঁরা ভুলিয়ে দিয়েছিল, তাঁদের এই কাজকর্ম আচরণকেও চিরতরে ভুলিয়ে দিতে হবে। ৩৪ বছর ধরে একটা দল রাজত্ব করেছে। তাঁরা বলত, ধর্ম মানে আফিম। কীসের ধর্ম? সুভাষবাবু (সুভাষ চক্রবর্তী) একবার তারাপীঠে পুজো দিতে গিয়েছিলেন। তারজন্য় তাঁকে পার্টি থেকে শোকজ খেতে হয়েছিল। রাজারহাট-গোপালপুরের বাসিন্দাদের সুবিধার জন্য ওয়েবসাইট চালু করেছেন এলাকার বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্য়োতি তিওয়ারি। শনিবার সেই ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।
