কলকাতা : চেতলায় গণেশ পুজো উদ্বোধনে গিয়ে দুর্গাপুজো নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, 'আমাকে চেতলা অগ্রণী থেকেও ডেকেছে। আমি সেখানেও যাব। কারণ আমার কাছে কোনও ভেদাভেদ নেই। কিন্তু পুজো করতে হবে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে। পুজো করতে হবে পঞ্জিকামতে। পিতৃপক্ষে কাঁচি নিয়ে ঘুরলে হবে না। পুজো হবে পুজোর মতো। শারদোৎসব করুন, আনন্দ করুন, গানবাজনা করুন, কিন্তু পুজো করতে হবে পঞ্জিকাতে যেমন যেমন লেখা আছে... মায়ের বোধন, কলাবউ স্নান, অষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলী, নবমীর আরতি এবং দশমীর নিরঞ্জন, দধিকর্মা, সিঁদুরখেলা... সেভাবেই করতে হবে। আমাদের যে স্বাত্তিকতা, যে পরম্পরা, এটাকে কোনওভাবে ভুলিয়ে দেওয়া চলবে না।' 

Continues below advertisement

'পুজো বলতে কষ্ট বামপন্থীদের, বলছে কেন পুজো লিখতে হবে...', মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় বামপন্থীরা 

কিছুদিন আগেই মিলন মেলা প্রাঙ্গন থেকে দুর্গাপুজো নিয়ে একগুচ্ছ নিয়ম ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী 

Continues below advertisement

মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে দিয়েছেন, দেবীপক্ষের সূচনা না হলে কোনও পুজোর উদ্বোধন করা যাবে না। এখানেই শেষ নয়, বিসর্জনের ক্ষেত্রেও একটা সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন লক্ষ্মীপুজো ২৫ অক্টোবর। তার আগে দুর্গাপুজোর বিসর্জন শেষ করতে হবে। পুজোর সময় শহরের একাধিক রাস্তাঘাট বন্ধ করে পুজো করার চলও এ রাজ্যে দেখা গিয়েছে। তবে এবার সেটাও করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। 

মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, রাজ্যের চারপাশের জাতীয় সড়ক বন্ধ করা যাবে না। কলকাতার ১৩টি রাস্তা খোলা রাখতে হবে। এই রাস্তাগুলি বন্ধ করে পুজো করা যাবে না। সেই তালিকায় রয়েছে ডিএল খান রোড, রেড রোড, জওহরলাল নেহেরু রোড, স্ট্র্যান্ড রোড, খিদিরপুর রোড, বর্ধমান রোড, হসপিটাল রোড, ক্যাথিড্রাল রোড, নির্মল চন্দ্র স্ট্রিট, লেনিন সরণি, বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট, পার্ক সার্কাস কানেক্টর, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড। দুর্গাপুজো এবং বিসর্জনে ডিজে বাজানো যাবে না। লক্ষ্মীপুজোর আগে বিসর্জন শেষ করতে হবে। মহাষ্টমীর দিন রাজ্যজুড়ে বন্ধ থাকবে মদের দোকান। বারেও বিক্রি হবে না মদ। এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই আবেদনও জানিয়েছেন, যে পুজোর থিমে, প্রতিমা নির্মাণের ক্ষেত্রে, প্যান্ডেলে যাতে এমন কিছু করা না হয়, যার দ্বারা দুর্গাপুজোর ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে আঘাত লাগে।