কলকাতা : এ রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর হাতেনাতে ঘুষ নিতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন বেশ কয়েকজন। সেই তালিকায় রয়েছেন পুলিশকর্মীও। তাও এক নয়, একাধিক। এবার পুলিশদের লোভ সংবরণের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, 'দুর্নীতি দমন শাখা (ACB - Anti Corruption Bureau) অনেককেই ধরছে। এক কনস্টেবলও ধরা পড়েছে ঝাড়গ্রামে ৫ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা সমেত। এই লোভগুলো সংবরণ করতে হবে। কারণ মুরলীধর শর্মার নেতৃত্বে আমি ACB- র স্ট্রং টিম আস্তে আস্তে বানিয়ে দিচ্ছি। সব রাজ্যেই ACB শক্তিশালী এবং সক্রিয়। আমাদের রাজ্যেও ৬ মাসের মধ্যে আমরা ACB ভালোভাবে স্ট্রং করে দেব।' শিলিগুড়ি এবং আসানসোলে ACB- র ব্রাঞ্চ হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।' 

Continues below advertisement

রাজ্য পুলিশের অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চ আইপিএস মুরলীধর শর্মার নেতৃত্বে তৈরি করা হয়েছে এবং সেখানে প্রচুর আইপিএস অফিসারকে নিযুক্ত করা হয়েছে। কিছুদিন আগে ঝাড়গ্রামে, বিডিও অফিসের একজন ইঞ্জিনিয়ারকে ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা। এই ঘটনার কিছুদিন পরই ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে পাকড়াও হন ব্যাঁটরা থানার সাব ইন্সপেক্টর সুব্রত সরকার। রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখার হাতে গ্রেফতার হন এই পুলিশ আধিকারিক। ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় পাকড়াও করা হয় ব্যাঁটরা থানার এই সাব ইন্সপেক্টরকে। 

আমার জায়গায় রাইট আমার, আপনি বোর্ড খুলেছেন, আমি ব্যানার লাগিয়েছি, আবার খুললে... : অভিষেক 

Continues below advertisement

এই ঘটনার আগে সবার প্রথমে রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখার হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার। জামবনির BDO অফিস থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ২ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে পাকড়াও করা হয় বিমল সাহা নামের বিডিও অফিসের ওই সাব অ্যাসিসট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে। একেবারে ছদ্মবেশে অফিসাররা বিডিও অফিসে পৌঁছেছিলেন। টাকার মধ্যে কিছু কেমিক্যাল লাগিয়ে নেওয়া হয়। সাধারণত এক্ষেত্রে ফেনলফথালিন টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। 

রাসায়নিক পরীক্ষা করার সময় ধরা পড়ে যান অভিযুক্ত সেই আধিকারিক। তিনি যখন টাকাগুলো নিতে যান, তাঁর হাতে সেই রং লেগে যায়। জলে সেই আধিকারিদের হাত চোবানো হলে দেখা যায় যে জলের রং গোলাপি হয়ে যাচ্ছে। জানা যায়, জাববনির বিডিও অফিস থেকে ঘুষ নিচ্ছিলেন এই অভিযুক্ত ব্যক্তি। একজন কনস্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করতেন বিমল সাহা। তিনি টাকার বিনিময়ে কাজের জন্য ঘুষ নিচ্ছিলেন বলে জানা যায়।