কলকাতা   :  মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় থেকে অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য থেকে শশী পাঁজা!  তৃণমূলের রথী মহারথীরা যখন পরাজিত  তখন বেলেঘাটার রায় নিয়ে প্রথমবার বিধায়ক হিসাবে বিধানসভার অলিন্দে পা রাখলেন কুণাল ঘোষ ( Kunal Ghosh )। বৃহস্পতিবার আরেক রায় তাঁকে পাঠ করালেন শপথবাক্য।  শপথগ্রহণের পরই শুরু হয় সৌজন্য বিনিময়ের পালা। আর সেখানেই নজর কাড়ে এক বিশেষ মুহূর্ত। মুখোমুখি হন বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ( Suvendu Adhikari ) । দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাত, প্রকাশ্য আক্রমণ ও তীব্র বাক্যযুদ্ধের পর এদিন তাঁদের হাসিমুখে কথা বলতে দেখা যায়।

Continues below advertisement

তৃণমূলের মুখপাত্র হিসেবে অতীতে বহুবার শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন কুণাল ঘোষ। যদিও একসময় তাঁরা একই রাজনৈতিক শিবিরের সদস্য ছিলেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে বাংলার রাজনীতিতে তাঁদের বিরোধিতাই সবচেয়ে বেশি চর্চিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সেই দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে বিধানসভায় মুখোমুখি হতে দেখে কৌতূহল তৈরি হয় রাজনৈতিক মহলে। শপথের পর শুভেন্দু অধিকারী হাসিমুখে কুণাল ঘোষকে বলেন—

Continues below advertisement

“কী হল? জিতে গেলেন তো...”

এরপর শুভেন্দুকেও শুভেচ্ছা জানান কুণাল ঘোষ। রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝেও এই সৌজন্য বিনিময়ের ছবি ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। 

এদিন প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় শপথবাক্য পাঠ করানোর পরই এক্স হ্যান্ডলে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করলেন কুণাল ঘোষ। লিখলেন, 'উত্তর ও মধ্য কলকাতায় তাপসদা, সজল ঘোষদের বাধ্য করা হয়েছিল দল ছাড়তে। দুজনকেই রাখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলাম। আজ তাঁরা বিধায়ক'।   পোস্টে কুণাল ঘোষ লেখেন, ' তাপসদাকে তৃণমূলে রাখতে আমরা চেষ্টা করেছিলাম। পারিনি, দুর্ভাগ্য। পরে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে আমি তাপসদাকে ভালো বলায়, আমাকে দল সাসপেন্ড করেছিল। ঘটনাচক্রে আমি আজ দলের বিধায়ক এবং শপথবাক্য পাঠ করছি বিজেপির হয়ে জিতে আসা তাপসদার হাতে। ভাগ্যচক্র। ' তাপস রায়ের কথা লিখতে লিখতেই বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের প্রসঙ্গও টেনে আনেন কুণাল ঘোষ। তিনি আরও লেখেন, ' সজল পুরপিতাও বটে। উত্তর ও মধ্য কলকাতায় তাপসদা, সজল ঘোষদের বাধ্য করা হয়েছিল দল ছাড়তে। দুজনকেই রাখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলাম। আজ তারা বিধায়ক । আমি তৃণমূলের সৈনিকই আছি। লড়াই চলবে। তবে যার বা যাদের জন্যে তাপসদা, সজলরা, আরও অনেকে দল ছেড়েছে, দলের ক্ষতি হয়েছে, তারপরেও একইরকম হোয়াটসঅ্যাপ কাঁদুনি পলিটিক্স করে স্বজনপোষণ চলছে, সেটা খুবই আপত্তির এবং উদ্বেগের। এভাবে চললে কর্মীরা ধৈর্য হারাচ্ছেন। তৃণমূলকে চাঙ্গা করার লড়াইতে আত্মবিশ্লেষণটাও জরুরি' । এখন তাঁর এই পোস্ট রাজনীতির জল্পনায়।