কলকাতা: ‘দ্রুত CAA-র শুনানি সম্পন্ন হবে, দ্রুত দেওয়া হবে CAA-র সার্টিফিকেট’, জরুরি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তিনি এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, ‘আমরা জেলা শাসকদের মাধ্যমে দ্রুত, যে ২ লক্ষ ৩০ হাজার আছে, তার মধ্যে ২৩ হাজার সার্টিফিকেট পেয়েছেন, ২ লক্ষ ৭ হাজার বাকি আছে। এবং এখনও যারা, আবেদন করেননি, এরফলে তারা করতে পারবেন। এবং আমরা দ্রুততার সঙ্গে শুনানি সম্পন্ন করে, ধর্মীয় উৎপীড়নের কারণে, বাংলাদেশ থেকে আসা, হিন্দু শরনার্থীদের সার্টিফিকেটও দিয়ে দিতে পারব। এই অধিকার এখন রাজ্য সরকার ..এখন আমার কাছে থেকে বুঝে নেবেন আপনারা। বিশেষ করে আমাদের হিন্দু শরনার্থী, মতুয়া, যারা দীর্ঘদিন ধরে আশায় ছিলেন, যারা আমাদের ক্ষমতায় বসিয়েছেন, এবারে সার্টিফিকেট আমার কাছ থেকে বুঝে নেবেন। এই দায়িত্বভার ভারত সরকার, আমার হাতে দিয়ে দিয়েছে।'
আরও পড়ুন, পুলিশকে 'হুমকি', BJP বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাপস চট্টোপাধ্যায়ের, "মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি জানাবো.."
রাজ্য়ে পালাবদলের পর, আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল, CAA সার্টিফিকেট দেওয়া। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত ১১ সপ্তাহে ৫ হাজার ৯৬৬ জনকে CAA সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। যাঁরা পাননি, তাঁদেরও CAA-র জন্য় আবেদন করার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে, এই ইস্য়ুতে সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। মূলত হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে CAA বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে এসেছে মোদি সরকার। আর এবার রাজ্য়ে ক্ষমতায় এসে, বাংলাদেশ থেকে এদেশে আসা অনেক মানুষের হাতে CAA সার্টিফিকেট তুলে দিচ্ছে বিজেপি সরকার।
মাসের শুরুতেই বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠানের সূচনা করেন মুখ্য়মন্ত্রী। মুখ্য়মন্ত্রী বলেছিলেন, নতুন যাঁরা আবেদন করেননি, ৩১.১২.২০১৪-র মধ্য়ে এসেছেন, তারাও আবেদন করবেন। আরও সরলীকরণের ব্য়বস্থা হবে এবং এটা হয়ে যাওয়ার পরে, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তকরণ, তার পরবর্তী সময়ে SC সার্টিফিকেট, যারা SC-র আওতায় পড়ছেন এই বিষয়গুলিও সম্পূর্ণভাবে দেখে নেওয়ার দায়িত্ব, আপনারা যাকে মুখ্য়মন্ত্রী করেছেন, সেই শুভেন্দু অধিকারীর।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর, ৫ হাজার ৯৬৬ জনকে CAA সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। জেলাভিত্তিক যে সার্টিফিকেট পেয়েছেন, তার মধ্য়ে সবথেকে বেশি নদিয়ায়। তারপরই উত্তর ২৪ পরগনা। মুখ্য়মন্ত্রী আরও বলেছিলেন,বিগত সরকার CAA-র বিরোধিতা করেছে। কিন্তু এই আইনের কোথাও লেখা ছিল না, কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ক্য়া ক্য়া ছি ছি বলা হয়েছে। NRC বলা হয়েছে। ভুল বুঝিয়ে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছে। অশান্তি হয়েছে রাজ্য়ে। তৎকালীন মুখ্য়মন্ত্রী নিজে মিছিল করেছেন।
