অর্ণব মুখোপাধ্যায়, সত্যজিৎ বৈদ্য, ঐশী মুখোপধ্যায়, পূর্ব মেদিনীপুর: মেচেদায় গিয়ে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন নিয়ে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর । 'নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কি প্রার্থী দিতে পারবে তৃণমূল? কোথাও তো কালীঘাট তৃণমূলও নেই, ঋতব্রত তৃণমূলও নেই?', উপনির্বাচনে দেখিয়ে দেব, বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, দাবি বৈঠক সূত্রে।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে জরুরি বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, "অযোগ্য থাকলে..", কত তারিখ অবধি চলবে ভেরিফিকেশন ? রইল বিস্তারিত

Continues below advertisement

১৯ বছর আগে, তিনি নিজেও সামিল হয়েছিলেন নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনে। আর মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে সেই সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের স্মৃতি আর ফিরিয়ে আনতে চান না শুভেন্দু অধিকারী। বাম আমলে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে বারবার বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর সরকারকে। ২০০৬ সালে, শিল্পের বীজ বোনা হয়েছিল সিঙ্গুরে। ওই বছর ২০ জুলাই জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। তারপরই আন্দোলন শুরু করেন কৃষকদের একাংশ। সরকার ৯৯৭ একর জমি অধিগ্রহণ করতে চাইলেও, প্রায় ৪০০ একর জমির মালিকরা জমি দিতে অস্বীকার করেন। কৃষকদের ক্ষোভকে হাতিয়ার করে ময়দানে নামেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

এরপর ২০০৮-এর ৬ সেপ্টেম্বর (২০০৮), রাজ্যপালের মধ্যস্থতায় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক বসলেও কোনও সমাধান সূত্র মেলেনি। তার এক মাসের মধ্যেই , ৩ অক্টোবর, দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর দিন, সিঙ্গুর থেকে কারখানা সরানোর ঘোষণা করেন রতন টাটা৷ রতন টাটা বলেছিলেন, বন্দুক ঠেকানো হলেও যাব না, কিন্তু মমতা তো ট্রিগার টিপে দিলেন। সিঙ্গুর আন্দোলনের মাঝেই মাথা চাড়া দেয় নন্দীগ্রাম আন্দোলন। ২০০৭ সালে কেমিক্যাল হাব তৈরির জন্য পূর্ব মেদিনীপুরের ওই এলাকাকে বেছে নেয় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর সরকার। সেখানেও কৃষি জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি।

আন্দোলন প্রতিরোধে পাল্টা মাঠে নামে পুলিশ প্রশাসন। ঘটে যায় ১৪ মার্চের সেই ভয়াবহ ঘটনা। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় ১৪ জনের। ওই বছরই ১০ নভেম্বর, ‘অপারেশন সুর্যোদয়ে’র দিন ভূমি-উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সঙ্গে সিপিএমের সংঘর্ষে ফের অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পূর্ব মেদিনীপুরের এই জনপদ। গুলিতে মৃত্য়ু হয় আরও বেশ কয়েকজনের। ঘরে-বাইরে চাপের ফলে শেষমেশ প্রকল্পের জন্য বিকল্প হিসেবে নয়াচরকে বেছে নিয়েছিল বুদ্ধদেবের সরকার। যদিও শেষমেশ আর বাস্তবায়ন হয়নি ওই শিল্পের। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম যদি বাম আমলের অস্বস্তির কারণ হয়ে থাকে, তাহলে তৃণমূল সরকারের গলার কাঁটা দেউচা-পাঁচামি। আর পুরনো থেকেই শিক্ষা নিয়ে হাঁটতে চাইছে নতুন সরকার। শনিবার ডানকুনিতে হোসিয়ারি সংস্থার নতুন ইউনিটের শিলান্যাসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রবিবার শিল্পমন্ত্রী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি অংশ নেন West Bengal Garment Manufacturers & Dealers Association-এর অনুষ্ঠানে।

অন্যদিকে স্কুল অফ ডে ট্রেডার্সের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, বাম আমলে শিল্পায়ন নিয়ে সিঙ্গুর এবং নন্দীগ্রাম হয়েছিল।তৃণমূল আমলে দেওচা পাচামি নিয়ে গন্ডগোল হয়েছিল। আপনাদের সময় তেমন কোন সমস্যা হবে না সেটা আপনারা কিভাবে গতিপথ ঠিক করছেন? তৃণমূল সাংসদ  সৌগত রায় বলেন, আমি শুভেন্দুর বিবৃতি দেখেছি। জমি শিল্প নিয়ে বাস্তব জ্ঞান নেই। উনি ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, ফাঁকা মাথা বলে। নতুন শিল্প-নীতি বিজেপি সরকারকে কতটা সাফল্য এনে দেয়, তার উত্তর মিলবে আগামী দিনেই।