কলকাতা: কয়লা পাচার কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ বিনয় মিশ্রকে আগেই 'ফেরার' বলে ঘোষণা করেছে ED। এবার বিনয় মিশ্রর বাবা-মাকেও 'ফেরার' ঘোষণা করল ED. বিনয় মিশ্রর বাবা তেজ বাহাদুর মিশ্র ও মা ললিতা মিশ্রকে 'ফেরার' ঘোষণা করেছে ED। 'এই ২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না', তাঁরা আদালতে হাজিরাও দিচ্ছেন না, দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টে জানিয়েছে ED। 'চলতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে', আত্মসমর্পণ না করলে, তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে, খবর ED সূত্রে।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, রাজ্যসভায় ১৩ থেকে কমে ১০-এ এসে ঠেকল তৃণমূল, সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা প্রকাশচিক বরাইকের

Continues below advertisement

কয়লা পাচার মামলার তদন্তে সম্প্রতি ৬ জন IPS অফিসারকে তলব করে ED.  দিল্লিতে ED-র সদর দফতরে তাঁদের হাজির হতে বলা হয়। কয়লাকাণ্ডে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত মামলায়, জ্ঞানবন্ত সিং, কোটেশ্বর রাও, তথাগত বসু, সেলভা মুরুগান সহ ৬ জন IPS-কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এই সব IPS-দের কয়েকজনকে আগেও জিজ্ঞাসাবাদ করে ED. সূত্রের খবর, কয়লা মাফিয়ার টাকা কাদের কাছে পৌঁছেছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য সামনে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান ED-র আধিকারিকরা। ED সূত্রে খবর, গত এক বছরে তদন্তে নতুন তথ্য উঠে আসে। সেই সূত্রেই আবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় ৬ জন IPS-কে। 

কয়লা ও গরু পাচারকাণ্ডে অভিযুক্ত বিনয় মিশ্র। কিছু বছর আগে তাঁর সন্ধান পেতে ইন্টারপোলের কাছে রেড কর্নার নোটিস জারি করার আবেদন করেছিল সিবিআই। সিবিআই জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল তাদের সেই আবেদন মঞ্জুর করে বিনয় মিশ্রর বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারি করেছিল। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর ছিল,ভিন্ দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার এক দেশ থেকে আরেক দেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন বিনয় মিশ্র। ইন্টারপোল রেড কর্নার নোটিস জারি করায় বিদেশের কোনও বিমানবন্দরে গেলে বিনয় মিশ্রর অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য জানা সম্ভব বলে সিবিআইয়ের দাবি ছিল।

রেড কর্নার নোটিস জারি হওয়ার পর, আরও নড়েচড়ে বসে সিবিআই। বিনয় মিশ্রের সম্পত্তি অ্যাটাচ করার জন্য আসানসোলের বিশেষ আদালতে আবেদন জানিয়েছিল সিবিআই। এর আগে বিনয় মিশ্রর রাসবিহারীর বাড়ি অ্যাটাচ করে ইডি। সিবিআই সূত্রে খবর, একক মালিকানা ছাড়াও, এখনও বেশ কিছু জমি, বাড়ি, অফিসের শেয়ার বিনয় মিশ্রের নামে ছিল। এর আগে, কয়লাকাণ্ডে অনুপ মাঝি ওরফে লালার জমি, বাড়ির মতো স্থাবর সম্পত্তি দখল করার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে সিবিআই।