প্রকাশ সিনহা, সৌভিক মজুমদার, মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: কয়লা পাচার মামলায় এবার দুই কয়লা ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ধৃতদের নাম চিন্ময় মণ্ডল ও কিরণ খাঁ। ED সূত্রে দাবি, তাঁরা দুজনেই কয়লা পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদেরকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হেফাজতের নির্দেশ দেয় ইডির স্পেশাল আদালত। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টেও পিছিয়ে গেল I-Pac মামলার শুনানি।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, ১ মার্চ রাজ্যে আসছেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার, দোলের পরেই কি ভোটের দিন ঘোষণা ?

Continues below advertisement

কয়লা পাচার মামলায় ফের সক্রিয় ED। এবার দুই কয়লা ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ED সূত্রে খবর, ধৃত চিন্ময় মণ্ডল পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের বাসিন্দা। ও কিরণ খাঁ রানিগঞ্জের বক্তারনগর এলাকার বাসিন্দা। তেসরা ফেব্রুয়ারি কয়লা পাচার মামলা কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় ম্যারাথন তল্লাশি চালায় ED, উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ টাকা। এরপর সোমবার পশ্চিম বর্ধমানের ২ কয়লা ব্যবসায়ীকে তলব করা হয় সিজিও কমপ্লেক্সে। ED-র দাবি, তদন্তে সহযোগিতা করছিলেন না দুই ব্যবসায়ী।এরপরই সোমবার রাতে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। কলকাতার ED অফিসে দায়ের করা ECIR-এর ভিত্তিতে,গত বছরের ২১ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড মিলিয়ে ৪৪ জায়গায় অভিযান চালায় ইডি। উদ্ধার হয় ১০ কোটিরও বেশি টাকা ও গয়না। সেদিনই, দুর্গাপুরের বিধাননগরে ধৃত চিন্ময় মণ্ডলের অফিসে তল্লাশি চালান।কেন্দ্রীয় তদন্তকারী আধিকারিকেরা।এরপর তেসরা ফেব্রুয়ারি ওই একই মামলায়, রানিগঞ্জের ব্য়বসায়ী কিরণ খাঁয়ের বাড়িতেও তল্লাশি চালায় ইডি। 

ED সূত্রে খবর, তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া একাধিক তথ্য নিয়ে, সোমবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় দুই ব্যবসায়ীকে। কিন্তু কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের করা একাধিক প্রশ্নের উত্তরে 'ডিনায়াল মোডে' ছিলেন তাঁরা। অর্থাৎ সবটাই অস্বীকার করেন। এরপরই দুই ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার দুই অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে ইডির স্পেশাল কোর্টে তোলা হলে, ED-র আইনজীবী সওয়াল করেন,তদন্তে নেমে প্রায় দেড়শো কোটি টাকার হিসেব পাওয়া গেছে। যা মূলত কয়লা পাচারের সঙ্গে যুক্ত।সিন্ডিকেট তৈরি করে 'গুন্ডা ট্যাক্স' তোলা হত। এর আগে এ নিয়ে ৪৭টা FIR দায়ের করেছিল CISF ও ECL কর্তৃপক্ষ।

বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেন, সব জায়গায় তৃণমূল জড়িত।  তৃণমূলে চোরটা বেরোবেই। IC, OC-দেরকে যাঁরা নেতৃত্ব দিয়ে চুরিগুলো করিয়েছে, তারা কেন গ্রেফতার হচ্ছেন না?  যাঁরা যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকবে তাঁরা প্রত্যেকেই গ্রেফতার হবেন।এর আগে, তেসরা ফেব্রুয়ারি দুর্গাপুরে আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের সাব ইনস্পেক্টর মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতেও তল্লাশি চালায় ইডি। সোমবার তাঁকেও তলব করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। এরই মধ্যে, গত ২৭ জানুয়ারি, মনোরঞ্জন মণ্ডলকে বুদবুদ থানার ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি দায়িত্বভার নেননি। মঙ্গলবার নতুন নির্দেশিকায় তাঁকে ফের আসানসোল-দুর্গাপুরের স্পেশাল ব্রাঞ্চে পোস্টিং দেওয়া হল।এসবের পাশাপাশি এদিন নজর ছিল সুপ্রিম কোর্টের দিকেও। I-Pac-এর দফতরে ED অভিযানের মামলার শুনানি ছিল মঙ্গলবার। কিন্তু, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কপিল সিব্বল অসুস্থ থাকায়, পিছিয়ে গেছে শুনানি।পরবর্তী শুনানি হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি।