শুভেন্দু ভট্টাচার্য, দিনহাটা: ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন, অর্থাৎ SIR নিয়ে রাজনীতির পারদ যখন চড়ছে, সেই সময় বিতর্কে জড়ালেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা নিশীথ প্রামাণিক। বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে নিশীথের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামলেন মহিলারা। একহাতে SIR-এর ফর্ম এবং অন্য হাতে নিশীথের কালি মাখানো ছবি নিয়ে প্রতিবাদ জানালেন। (Nisith Pramanik)

Continues below advertisement

কোচবিহারের দিনহাটা বিধানসভার অন্তর্গত বুড়িরহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮ নং বুথের ঘটনা। বুথ লেভেল অফিসারের কাছে SIR-এর এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার সময় বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। একহাতে SIR ফর্ম ধরে রেখেছিলেন তাঁরা। অন্য হাতে ছিল নিশীথের একটি ছবি, যাতে কালি লেপা ছিল। নিশীথের মন্তব্যের প্রতিবাদেই এই বিক্ষোভ বলে জানান মহিলারা। (Cooch Behar news)

পুরনো একটি মামলায় মঙ্গলবার দিনহাটা আদালতে হাজিরা দেন নিশীথ। সেখানে SIR নিয়ে নিজের মতামত জানান তিনি। তাঁর দাবি ছিল, দিনহাটার বেশ কিছু জায়গায় এক-এক জন বাবার প্রায় ৩০-৪০টা করে ছেলেমেয়ের নাম রয়েছে। একজন বাবার নাম করে নাম তুলেছে অনুপ্রবেশকারীরা।

Continues below advertisement

নিশীথের ওই মন্তব্য সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই বিতর্ক দেখা দেয়। স্থানীয়রা যেমন ফুঁসে ওঠেন, তেমনই প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদ মন্ত্রী উদয়ন গুহ। নিশীথ তথ্য়প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলে ঘোষণা করেন উদয়ন। 

সেই নিয়ে তরজার মধ্যে বুধবার SIR ফর্ম জমা দিতে যান বুড়িরহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিলারা। সেখানেই নিশীথের মন্তব্যে প্রতিবাদ জানান তাঁরা। BLO-র কাছেও বিভোক্ষ দেখান। জানান, দিনহাটার মানুষকে অপমান করেছেন নিশীথ। এক মহিলা বলেন, “উনি বলছেন, আমাদের নাকি ২০-২৫টা করে বাচ্চা! ওঁর মায়ের ক’টা বাচ্চা। ধিক্কার জানাই ওঁকে।”

নিশীথের যে মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্কের সূচনা, তাতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “এখানে সুকারুকুটি, গীতালদহ, ওকড়াবাড়ির মতো এলাকায় এমন অনেক লোক আছে, যাদের বাবার নাম একটাই, কিন্তু ছেলে অনেক। একজন ব্যক্তির ৩০-৪০ ছেলে হতে পারে কি? হতেই পারে না। বাংলাদেশ থেকে এসে এখানকার মেয়েকে বিয়ে করে অনেকে। শ্বশুরকে বাবা বানিয়ে ভোটার কার্ড তৈরি করে। একের পর এক ঘটনা সামনে আসছে।”

নিশীথের ওই মন্তব্য নিয়ে উদয়ন সেই সময় বলেন, “এরকম একটা নাম বলুক যার ৩০ সন্তান আছে। এই তিনটি অঞ্চলে এমন কারও নাম বলুক। এরকম কোনও নাম বলতে পারলে রাজনীতিই করব না। মিনি পাকিস্তান বলেছে। হিম্মত থাকলে একবার ওখানে গিয়ে মানুষের সামনে দাঁড়াক। চ্যালেঞ্জ করে বলছি, ক্ষমতা থাকলে যাব। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা সঙ্গে নিয়ে ওখানে যেতে পারে ও। তা ছাড়া সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হওয়ার ক্ষমতা নেই ওর।” এর পর মহিলারা বিক্ষোভে নামেন।