শুভেন্দু ভট্টাচার্য, কোচবিহার: গাড়ি উঠতেই হুড়মুড়িয়ে ভাঙল দেওশাল ব্রিজ। যার জেরে দুর্ভোগে শীতলকুচির দুই পাড়ের মানুষ। সকাল সকাল গাড়ি উঠতেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল শীতলকুচির ছোট শালবাড়ির দেওশাল ব্রিজ। ঘটনায় বড়সড় দুর্ঘটনা না ঘটলেও চরম সমস্যায় পড়েছেন দুই পাড়ের বাসিন্দারা। রবিবার সকালে ব্রিজের উপর একটি গাড়ি উঠতেই আচমকা ব্রিজটি ভেঙে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

Continues below advertisement

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরেই বেহাল অবস্থায় ছিল এই ব্রিজটি। এমনকী প্রশাসনের তরফে ব্রিজের গায়ে 'দুর্বল সেতু' বলে সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরও ব্রিজটির সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের তরফে। ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াত কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিত্যদিনের যাতায়াত থেকে শুরু করে জরুরি পরিষেবা, সব ক্ষেত্রেই সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল জানা সত্ত্বেও আগেই কেন সংস্কার করা হল না? বিগত সরকারের আমলে কেন এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হয়নি?এখন দ্রুত প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, আর দুই পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ কতদিনে কাটে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

রাজ্যুজড়ে প্রবল বর্ষণের জন্য ব্রিজ ভেঙে পড়ার খবর বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছে। কিছুদিন আগেই বাঁকুড়ায় টানা বৃষ্টির জন্য জলের স্তর বেড়ে ব্রিজ চলে গিয়েছি জলের তলায়। দারকেশ্বর নদীর ওপর থাকা কেঞ্জাকুড়া সেতু রীতিমত ডুবে গিয়েছিল। যার জন্য সমস্যায় পড়তে হয়েছিল দু পাড়ে থাকা বাসিন্দাদের।

Continues below advertisement

একই ছবি ধরা পড়েছিল কিছুদিন আগে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরেও। সেখানে স্বরুপনগরের ইছামতি নদীর ওপর দিয়ে চলে গিয়েছিল দু পাড়কে সংযোগ করা একটি বাঁশের সাঁকো। যেখান দিয়ে নিত্যদিন প্রচুর মানুষ পাড়াপাড় করতেন। কিন্তু সেই সাঁকোও ভেঙে পড়েছিল প্রবল বৃষ্টিতে কচুরিপানার চাপে। যার ফলে সকাল থেকে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল প্রচুর মানুষ। একপ্রকার দু প্রান্তের সংযোগই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারাও অভিযোগ জানিয়েছিলেন যে পূর্বতন সরকারকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা কোনও পদক্ষেপ নেননি। 

গত কয়েকদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে টানা বৃষ্টি হয়েছে কলকাতার মতই। কলকাতায় যেমন জল জমে যাওয়াটা প্রতি বর্ষাকালের ছবি, ঠিক তেমনই গ্রামে ও রাজ্যের অন্য়ান্য প্রান্তে বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টিতে ভেঙে গিয়েছে ব্রিজ।