সন্দীপ সরকার, সৌমিত্র রায় ও উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: কলকাতায় দিকে দিকে বামেদের বুক স্টলে বাধার অভিযোগ উঠল। সকাল থেকে বিকেল, এনিয়ে দফায় দফায় অশান্তি বাধল এন্টালিতে। জোড়াবাগানে বিজেপির বিরুদ্ধে স্টলের কাঠামো সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলল সিপিএম। প্রায় একই ছবি আহিরীটোলাতেও। সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, সাড়ম্বরে সেজেছে নিউটাউন সনাতনী দুর্গাপুজো, চেয়ারম্যান খোদ মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা, কী বললেন বিশেষ সাক্ষাৎকারে ?

Continues below advertisement

দুর্গাপুজোয় সিপিএমের বইয়ের স্টল। সেই বুক স্টল তৈরিতে কোথাও বাধার অভিযোগ। আবার কোথাও বামেদের বুকস্টল ভেঙে আগুন লাগানোর মতো অভিযোগ ঘিরে বাধল তুলকালাম কাণ্ড। অভিযোগকারী সিপিএম নেতা বলেন,তারা বলে দুর্গোৎসব লিখতে হবে। ছোট ছোট বাঁশগুলো দিয়ে মারতে থাকে,প্যান্ডেল খুলুন। ' এন্টালির কামারডাঙায় মহাষষ্ঠীর সকালে সিপিএমের বুকস্টল তৈরি ঘিরে ঝামেলা বাঁধে।ঢাকুরিয়া, হাওড়া  শিবপুর আহিরীটোলার পর এন্টালির কামারডাঙা। সিপিএমের স্টল করতে বাধা আর তা নিয়ে তুলকালাম পরিস্থিতি। পুজোর অনেকদিন আগেই এখানে হোর্ডিং পড়েছিল বামবধ। তারপর আজ মহাষষ্ঠীর সকালে দোকানঘর আটকে স্টল করার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, দোকান ঘিরে স্টল তৈরির সময় বাধা দেন স্থানীয়দের একাংশ।অভিযোগকারী দোকানদার বলেন, সিপিএমের যাঁরা প্যান্ডেল করে এসে আমার দোকানটা আটকে দিচ্ছে। বললাম- পুরোটা ঘিরলে কী করে হবে? আমি গরিব মানুষ।'

 প্রতিবারই পুজোর সময় মণ্ডপের আশেপাশে বইয়ের স্টল করে বামপন্থীরা। সম্প্রতি সিপিএমের বুকস্টলের প্রসঙ্গ শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর মুখেও।সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,  আমি সব দুর্গাপূজা কমিটিকে বলব, এই তথাকথিত কমিউনিস্টরা পুজোর স্টল করতে গেলে শারদোৎসবের জায়গায় যদি দুর্গাপুজো না লেখে, একটা স্টলও করতে দেবেন না।' এরপরই পুজোয় বামেদের স্টল বসতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে এন্টালির কামারডাঙা সাধারণ দুর্গোৎসব সমিতির এই হোর্ডিং সামনে আসে।  সেখানেই এবার বুকস্টল তৈরিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল। 

কামারডাঙা সাধারণ দুর্গোৎসব সমিতি সভাপতি সুরেশ কুমার সিং বলেন, প্রতিবাদের মুখে পড়ে বামপন্থীরা বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় ল্যাজ গুটিয়ে পালাচ্ছে। সকালে সিপিএমের বুকস্টলে বাধার পর বিকেলে এন্টালির কামারডাঙাতে SUCI-এর স্টল ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে দুষকৃতীদের বিরুদ্ধে।উত্তর কলকাতার জোড়াবাগানেও একই অভিযোগে সরব হয়েছে সিপিএম। অভিযোগকারী সিপিএম নেতা বলেন, শারদীয়ার বুকস্টল প্রায় ৪০ বছর ধরে আমরা করি।  প্রায় ১৫-১৬ জন, আশেপাশে বিজেপির সব ইয়ং ব্যাচ এসে আমাদের বাধা দেয় বুক স্টল করার জন্য। আহিরীটোলা সর্বজনীনের সামনেও সিপিএমের বুকস্টল করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক  মহম্মদ সেলিম বলেন, কখনও কসবায়, কখনও হাওড়ায়, কখনও বেহালায়, কখনও বিরাটিতে, কখনও ভাটপাড়ায়, নৈহাটিতে একটার পর একটা বামপন্থী দলগুলোর সংগঠনগুলোর যে বুকস্টল আছে, সেটা ভাঙচুর করা। অগ্নিসংযোগ করা, হামলা করা হাঙ্গামা করার চেষ্টা হচ্ছে। আমরা সেগুলো প্রতিহত করব। বই পড়া, বই ছাপা, বই বিক্রি করা কোনও শাসক আটকাতে পারে না।

মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, 'বিজেপির তরফ থেকে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে দেখা যাচ্ছে একাধিক জায়গায় CPM-এর স্টলগুলি আক্রান্ত হচ্ছে। বাধা পাচ্ছে। এটা হওয়া উচিত নয়। গণতান্ত্রিক পরিসরটাকে তো ওরা নষ্ট করে দিচ্ছে এই ভারতীয় জনতা পার্টি।' গোটা ঘটনায় বিজেপি জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বিজেপির রাজ্য সভাপতি  শমীক ভট্টাচার্য বলেন, কোনও স্টল ভাঙচুর, কোনও জায়গার রং বদল, এর মধ্যে বিজেপি দূর দূর পর্যন্ত নেই।  হঠাৎ বিজেপি কিছু হয়েছে। তাঁরা গিয়ে পুরনো রাগ মেটাতে ওখানে গিয়ে কিছু করেছে।' সবমিলিয়ে দুর্গাপুজোয় সিপিএমের বুকস্টল ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে।