কলকাতা: ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে, প্রায় হয়ে গিয়েছে সমস্ত দলের প্রার্থী ঘোষণা ও। জোরকদমে চলছে প্রচার.. কখনও দেওয়াল লিখন করে, কখনও পায়ে হেঁটে.. জায়গায় জায়গায় প্রচারের ছবিটা জমজমাট। আর এবার, নজর কাড়লেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (Minakshi Mukherjee)। এবারে উত্তরপাড়ার সিপিএম-এর প্রার্থী তিনি। প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই প্রচার শুরু করেছেন তিনি। কখনও তিনি এলাকায় এলাকায় ঘুরে ফোন নম্বর লেখা কার্ড বিলি করেছেন। কখনও আবার দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে সমস্যার কথা শুনেছেন সাধারণ মানুষের। আর আজ, প্রচারে বেরিয়ে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন মীনাক্ষী।
এদিন প্রচারে বেরিয়ে মীনাক্ষী উত্তরপাড়া পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে যুব গোষ্ঠী মাঠে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সামিল হন। অনুষ্ঠানের আয়োজকেরাও যারপরনাই খুশি হন মীনাক্ষীকে পেয়ে। অনুষ্ঠান কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানানো হয়। পূজার যজ্ঞের আগুনে ঘৃতাহুতি দেন মীনাক্ষী। প্রসঙ্গত, ঈদের দিনেও প্রচারে বেরিয়েছিলেন মীনাক্ষী। সাধারণ মানুষদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন তিনি। আর এদিন প্রচারে বেরিয়েই, উত্তরপাড়ার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হন মীনাক্ষী। তবে তিনি জানান, খুশির ঈদে তিনি কোনও রেশারেশি রাখতে চান না।
আজও বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রত্যেক বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন মীনাক্ষী। ভোটের প্রচারে বেরিয়ে সিপিএম প্রার্থী বলেন, 'মানুষ জনপ্রতিনিধিদের জেতায়, এরপর তাঁদের আর পায় না। আমাদের পার্টির পক্ষ থেকে আমরা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছি। আমরা পাড়া বৈঠক করেছি। সেখানে মানুষ যা জানিয়েছে, তার দিকে খেয়াল রেখেছি। আরও যদি কোনও পরামর্শ মানুষ দেয়, তা নিয়েই আমরা কাজ করব।'
উত্তরপাড়ায় ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কাঞ্চন মল্লিক। কিন্তু সেখানে জয়ের পর থেকে আর এলাকাতেই না কি দেখা যেত না অভিনেতা বিধায়ককে। মানুষের মধ্য়ে ক্ষোভও জমা হয়েছে। এবার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে কল্যান বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ছেলে শীর্ষন্য বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে। মীনাক্ষী বলছেন, 'এই কার্ডের বন্দোবস্ত করা হয়েছে, কারণ আমাদের পার্টির একটা নিজস্ব এজেন্ডা রয়েছে। কাউকে দেখে আমরা কাজ করি না। মানুষ যাতে আমাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারে, তাই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।' এদিকে, এখানকার তৃণমূল প্রার্থী কটাক্ষ করে বলছেন, 'সিপিএমের পরিযায়ী প্রার্থী। ৪ মে-র পর এই নম্বরে ফোন করলে পাওয়া যাবে না। আমাকে এখানে সবাই চেনে, সবাই আমার নম্বর জানে। আমাকে আলাদা করে ভোটের জন্য় নম্বর নিতে হয়নি। এখানকার মানুষ আমাকে সবসময়ই পাবে। আমি এখানকার ঘরের ছেলে।'
