কলকাতা : দিল্লি এইমস হাসপাতালে ভর্তি বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু । গত তিনদিন ধরে এই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন প্রবীণ সিপিএম নেতা। তাঁর বুকে পেসমেকার বসানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, বিমান বসু এখন পুরোপুরি সুস্থ রয়েছেন। উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো তাঁর সঙ্গে এখন কাউকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। সিপিআইএম নেত্রী বৃন্দা কারাত সব দেখভাল করছেন।

Continues below advertisement

পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনের আগে এবিপি আনন্দর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সুমন দে-কে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক। সেখানে নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন প্রসঙ্গর কথা জানানোর পাশাপাশি বর্তমানে বামপন্থীরা কোথায় দাঁড়িয়ে সে নিয়ে নিজের গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেছিলেন বিমান বসু। এবিপি আনন্দর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সুমন দে তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, আপনি বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান, দলের সর্বোচ্চ স্তরে ছিলেন, এখন অনেকে বলে এরকম পদের জন্য 'চাণক্য' হয়ে ওঠার দরকার। কোথাও চতুর, ট্যাক্টফুল হওয়ার দরকার হয়। কিন্তু আপনার চরিত্রের সঙ্গে এগুলি যায় না। আপনি বড় বেশি স্ট্রেট ফরোয়ার্ড। আপনার এই বিষয়ে কিছু মনে হয়েছে? 

উত্তরে বিমান বসু বলেছিলেন, আমি যেভাবে গড়ে উঠেছি সেভাবেই চলব। কোনওদিন মানুষ ঠকাইনি, মানুষকে মিথ্যে কথা বলিনি। এখনও বলি না। প্রয়োজনে বলি একথা নিয়ে আলোচনা করব না।

Continues below advertisement

শুধু জীবনযাপনের কথা নয়, এই অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণার পাশাপাশি একান্ত কিছু ছবিও উঠে আসে। কিছু নিজস্ব যাপনচিত্র উঠে আসে এবিপি আনন্দের ক্যামেরায়, একেবারে এক্সক্লুসিভলি। সে প্রসঙ্গে বর্ষীয়ান বাম নেতার মন্তব্য ছিল, "আমি একা মানুষ। কোনওমতে চলে গেলেই হবে। আছে প্রচুর বইপত্র। দিয়ে দিয়েছি তাও প্রায় ৭০০ বই। আরও বই যা আছে, দিয়ে দেব। আমি বলেই দিয়েছি আমি চলে গেলে আমার সব বই পার্টির লাইব্রেরিতে দিয়ে দিতে।" বিমান বসুর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতা, স্মৃতিরোমন্থনের মাঝেই এবিপি আনন্দর ক্যামেরাতেই সেই প্রথমবার ধরা পড়ে বিমান বসুর ঘরের আনাচকানাচ। এই ঘরের ছবি কোনওদিনই প্রকাশ্যে আনেননি বিমান বসু। ২০০০ সাল থেকে এই ঘরেই তিনি থাকেন সারাদিন, অফিস করে এই ঘরেই ফিরে আসেন। এই ঘরে ঢোকার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ এর বড় কারণ ঘর অগোছালো। অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর আজকের জীবনযাপনের যে সব ছবি আমরা দেখে থাকি, তার সঙ্গে তুলনাতেই আসে না এ ছবি। কারণ এ যাপন অত্যন্ত সাধারণ যাপন।