কলকাতা: সাক্ষাৎকার নয়, স্মৃতির পথে হাঁটা, দেখা মুখ, না-দেখা আঙ্গিক, শোনা স্বর, না-শোনা গল্প, চেনা জীবন, অচেনা ছবির অ্যালবাম- এবিপি আনন্দে মুখোমুখি বিমান বসু। সেই অনুষ্ঠানেই বাম নেতা জানালেন তাঁর ব্যাঙ্কে কোনও অ্যাকাউন্টই নেই! কেন?  

উত্তর জানতে হলে ফিরে যেতে হবে অতীতে। বিমান বসুর আত্মজীবনীর যদি দুটো ভাগ হয় তাহলে প্রথম পার্টের নাম হতে পারে, রান্নাঘরে ১৩টি বছর। কারণ সেই সময়, কার্যত পার্টির একটি রান্নাঘরে ১৯৭১ থেকে ১৯৮৪ অবধি ছিলেন। এরপর প্রমোদ দাশগুপের মেসে ১৯৮৪ থেকে ২০০০ অবধি ছিলেন। এরপর ২০০০ থেকে আলিমুদ্দিনের এই অফিসের কার্যত ছাদের ঘরে থাকেন। অতএব, দ্বিতীয় পার্টের নাম হতে পারে বাকি অর্ধেক ছাদের ঘরে। 

সুমন দে (এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, এবিপি আনন্দ): আজকে যখন দেখেন নেতাদের বান্ধবীদের বাড়ি থেকে ৫০ কোটি টাকা নগদ, ১১ কিলো সোনা বেরচ্ছে, তখন নিজের ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স পাশে রাখতে কেমন অনুভূতি হয়? 

বিমান বসু:আমার তো in the true sense of the term ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স নেই, কারণ আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টই নেই! আমার নিজের দাদার একবার মনে হয়েছে যে আমার টাকার দরকার, উনি ব্যবসায়ী ছিলেন, বাইরে থাকতেন। বলেছিলেন তোর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটা দে, টাকা পাঠাবো। আমি বললাম হঠাৎ টাকা পাঠানোর কথা ভাবছিস কেন? বলেন, আমি মন স্থির করেছি। আমি বললাম পার্টিকে টাকা দিয়ে দে সেখানের অ্যাকাউন্ট দিচ্ছি। সেখানে দেবে না। আর আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই। আর থাকলেও তোর টাকা নিতাম না।  

সুমন দে: আপনি বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান, দলের সর্বোচ্চ স্তরে ছিলেন, এখন অনেকে বলে এরকম পদের জন্য 'চাণক্য' হয়ে ওঠার দরকার। কোথাও চতুর, ট্যাক্টফুল হওয়ার দরকার হয়। কিন্তু আপনার চরিত্রের সঙ্গে এগুলি যায় না। আপনি বড় বেশি স্ট্রেট ফরোয়ার্ড। আপনার এই বিষয়ে কিছু মনে হয়েছে?  

বিমান বসু:আমি যেভাবে গড়ে উঠেছি সেভাবেই চলব। কোনওদিন মানুষ ঠকাইনি, মানুষকে মিথ্যে কথা বলিনি। এখনও বলি না। প্রয়োজনে বলি একথা নিয়ে আলোচনা করব না। 

শুধু জীবনযাপনের কথা নয়, এই অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণার পাশাপাশি একান্ত কিছু ছবিও উঠে এসেছে। কিছু নিজস্ব যাপনচিত্র উঠে এসেছে এবিপি আনন্দের ক্যামেরায়, একেবারে এক্সক্লুসিভলি। সে প্রসঙ্গে বর্ষীয়ান বাম নেতার মন্তব্য, আমি একা মানুষ। কোনওমতে চলে গেলেই হবে। আছে প্রচুর বইপত্র। দিয়ে দিয়েছি তাও প্রায় ৭০০ বই। আরও বই যা আছে, দিয়ে দেব। আমি বলেই দিয়েছি আমি চলে গেলে আমার সব বই পার্টির লাইব্রেরিতে দিয়ে দিতে। 

বিমান বসুর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতা, স্মৃতিরোমন্থনের মাঝেই এবিপি আনন্দর ক্যামেরাতেই এই প্রথমবার ধরা পড়ল বিমান বসুর ঘরের আনাচকানাচ। এই ঘরের ছবি কোনওদিনই প্রকাশ্যে আনেননি বিমান বসু। ২০০০ সাল থেকে এই ঘরেই তিনি থাকেন সারাদিন, অফিস করে এই ঘরেই ফিরে আসেন। এই ঘরে ঢোকার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ এর বড় কারণ ঘর অগোছালো। 

রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর আজকের জীবনযাপনের যে সব ছবি আমরা দেখে থাকি, তার সঙ্গে তুলনাতেই আসে না এ ছবি। কারণ এ যাপন অত্যন্ত সাধারণ যাপন। অনেকেই বিমান বসুর ক্ষেত্রে যে শব্দ ব্যবহার করেন যে 'রাজনৈতিক সন্ন্যাসী'। সেই শব্দ যে এক্ষেত্রে সুপ্রযুক্ত, তা বলাই বাহুল্য।   

সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি দেখুন-