ভাইজাগ: নির্ধারিত সময়ের আগেই আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় । উপকূল জুড়ে চলছে তাণ্ডব। ত্রস্ত সাধারণ মানুষ। আবহাওয়া দফতর বলছে, বিপদের আরও বাকি। কারণ সবথেকে শক্তিশালী 'ঘূর্ণিঝড়ের চক্ষু' এখনও প্রবেশ করেনি স্থলভাগে। তাই দুর্যোগ আরও বাড়তে পারে। আরও বড় ক্ষতি আশঙ্কায় প্রমাদ গুনছে মানুষ।                     

Continues below advertisement

রাত ১টা ২৩ মিনিট নাগাদ স্থলভাগে আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর। স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও পুদুচেরির বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টি। সঙ্গে বইছে ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া। উত্তাল সমুদ্রে তৈরি হয়েছে বিশাল ঢেউ। তার দাপটে উপকূলের একাধিক বিচ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। 

অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ের দাপটে উপড়ে পড়েছে একাধিক গাছ। ছিঁড়ে গিয়েছে বিদ্যুতের তার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কিছু বাড়িঘরও। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, ঘণ্টায় প্রায় ৩ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ঝড়ের প্রভাবে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি ক্রমশ প্রতিকূল হয়ে উঠছে।    

Continues below advertisement

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব' ঘণ্টায় ৩ কিলোমিটার গতিতে এগোচ্ছে উত্তর-পশ্চিম দিকে। অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল এলাকার একাধিক জায়গায় উপড়ে পড়েছে গাছ, ছিঁড়ে গেছে বিদ্যুতের তার। বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত। 

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ওড়িশাতেও। গজপতি, গঞ্জম, রায়গড়া, কোরাপুট, নবরংপুর ও মালকানগিরি-সহ একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সেই সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পুরীতে জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। অন্যদিকে, সুন্দরগড়, সম্বলপুর, দেওগড়, ময়ূরভঞ্জ, বালেশ্বর, ভদ্রক ও কটক-সহ একাধিক জেলায় জারি রয়েছে হলুদ সতর্কতা।

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব থেকে বাদ যাবে না পশ্চিমবঙ্গও। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। আজ ও আগামীকাল দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা হাওয়াও বইতে পারে। ফলে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজর রাখছে প্রশাসন।