ভাইজাগ : অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করেছে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। আস্তে আস্তে দুর্বল হয়েছে ঝড়।  তবে প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় বিপর্যস্ত দুই রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা। কোথাও জলমগ্ন ধানক্ষেত, কোথাও রাস্তায় জমেছে জল। একাধিক রাস্তা ধসে গিয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় রাজ্যের ১১টি জেলায় জারি করা হল আকস্মিক বন্যার সতর্কতা। বিশেষ করে উত্তর উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম জেলায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেখানে ইতিমধ্যেই ১৬৭টি গ্রামে বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাপটলা, গুন্টুর, কৃষ্ণা, এনটিআর, ইলুরু, কোনাসিমা, পূর্ব গোদাবরী, আনাকাপল্লী, বিশাখাপত্তনম, মান্যম এবং শ্রীকাকুলাম, এই ১১টি জেলায় বন্যার সতর্কতা জারি রয়েছে।              

Continues below advertisement

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে উত্তর উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম। সেখানকার একাধিক এলাকায় বৃষ্টির জল জমে  জনজীবন একেবারে বিপর্যস্ত। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের ভিডিওতে  দেখা গিয়েছে, বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত এখন জলের তলায় । জলমগ্ন রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।  ফসলের ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। জমিতে জল জমে থাকলে ধান-সহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শ্রীকাকুলামের পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য উপকূলবর্তী এলাকাতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব ও বন্যার আশঙ্কার মধ্যে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সতর্ক থাকার এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।             

ভয়ঙ্কর এই দুর্যোগের জেরে অন্ধ্রপ্রদেশে প্রাণ যায় কয়েকজনের! ঝড়ের তাণ্ডবে মাটিতে মিশে যায় বহু বাড়ি। 'অর্ণব'-এর প্রভাব পড়ে প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশাতেও। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে দক্ষিণ ওড়িশায়। 'অর্ণব'-এর জেরে এরাজ্যেও চলে দুর্যোগ। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় জারি করা হয় হলুদ সতর্কতা। সকাল থেকেই দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর সহ উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে দফায় দফায় চলে বৃষ্টি। দিঘার সমুদ্র উত্তাল হওয়ায়, মৎস্যজীবী ও পর্যটকদের সেখানে যেতে নিষেধ করা হয় প্রশাসনের তরফে। একই পরিস্থিতি হয় দিঘা থেকে কিছুটা দূরে ওড়িশার তালসারি আর চাঁদিপুরেও। ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'-এর জেরে বাতিল করা হয় একাধিক ট্রেন।  ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়ে বিমান চলাচলেও।           

Continues below advertisement