গৌতম মণ্ডল, কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে রূপ নিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। যদিও এর সরাসরি ‘ল্যান্ডফল’ বা স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা এ রাজ্যে নেই, তবুও এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টির সাথে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। মৎস্যজীবীদের আজ থেকেই সমুদ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সাগরে ব্লক প্রশাসনের তরফ থেকে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের নামিয়ে চালানো হচ্ছে জোরদার মাইকিং। কপিলমুনি আশ্রম চত্বরে থাকা পুণ্যার্থী এবং উপকূলের অস্থায়ী দোকানদারদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নামতেও বারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কশতলা গ্রাম-সহ সাগর ব্লকের সমস্ত দুর্বল নদীবাঁধ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের কর্তারা মাইক হাতে বাসিন্দাদের সতর্ক করছেন, যাতে দুর্যোগ বাড়লে দ্রুত নিরাপদ স্থানে পৌঁছানো যায়।
শক্তি বৃদ্ধি করে গতকালই এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। আগামী ১২ ঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কতটা শক্তি বাড়াবে এই ঝড়। আরও শক্তি সঞ্চয় করে কি অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে 'অর্ণব'? ঝড়ের গতিপ্রকৃতির উপর নজর রাখছেন আবহবিদরা। তবে ঝড়ের তীব্রতা সম্পর্কে আন্দাজ করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রশাসন।
বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা মাথায় রেখে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, তেলঙ্গানা, ছত্তিশগড় এবং পুদুচেরিতে। ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল হতে পারে অন্ধ্রপ্রদেশে। ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ইতিমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে ৫৩টি ট্রেন। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) - এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব বর্তমানে একটি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ঝড়ের গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখছেন আবহবিদরা। উপকূলবর্তী এলাকায় বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহবিদদের অনুমান, ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল পশ্চিমবঙ্গে না হলেও, এর পরোক্ষ প্রভাবে , মঙ্গলবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গে ধাপে ধাপে শুরু হতে পারে বৃষ্টি। বুধবার বাড়বে বৃষ্টির পরিমাণ।
আবহাওয়া দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ১৭ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। বিশাখাপত্তনম থেকে প্রায় ৪৯০ কিলোমিটার, কাকিনাদা থেকে ৫৬০ কিলোমিটার এবং বাপাতলা থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে এই ঘূর্ণিঝড়। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকায়, ইয়ানামের কাছ দিয়ে ঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে বলে মনে করছে আবহাওয়া দফতর।
