একটি ঝড়ের রেশ কাটতে না কাটতেই আরেক ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা। ফের নতুন করে বিপদের আশঙ্কা। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের পর নতুন ঝড়ের টার্গেট ফের অন্ধ্রই। 'অর্ণব' আঘাত হানার আগে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা জুড়ে ১ লক্ষ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে এক ঝড়ের অভিঘাত কাটিয়ে মানুষ ঘরে ফেরার আশা করতে-না-করতেই আবারও এক ঝড়ের শঙ্কা। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ফের একটি ঘূর্ণিঝড় অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল বিপদের মুখে বিপর্যয় মোকাবিলা শক্তপোক্ত করা। বিদ্যুৎ, পানীয় জল, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা কত দ্রুত স্বাভাবিক করা যাচ্ছে, তার উপরেও নির্ভর করছে বিপর্যয় মোকাবিলার সাফল্য।
অর্ণবের পর, আগামী ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ হয়েছে ' মুরাসু'। এই নাম দিয়েছে ভারত। একইভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে হানা দেবে এই ঘূর্ণিঝড়। ২ নভেম্বর সোমবার ঘূর্ণিঝড় উপকূলের কাছে পৌঁছতে পারে। মৌসম ভবন থেকে শেষ পাওয়া খবর অনুসারে, মঙ্গলবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। রবিবার দুপুরেই এই গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে।
তবে মনে করা হচ্ছে, এর সরাসরি কোন প্রভাব নেই পশ্চিমবঙ্গে। তবে এর গতিপথ কোন দিকে হচ্ছে সেদিকে নজর রাখছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা। সোম ও মঙ্গলবার সব জেলায় আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে। বিক্ষিপ্তভাবে ১-২ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার বেশ কিছু জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর । এর মধ্যে কলকাতা সহ নয় দশ জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় বছর বিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি দু-এক পশলা। বাকি জেলায় শুকনো আবহাওয়াই থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত শুকনো আবহাওয়াই থাকবে সব জেলাতেই।
পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে কোনও সতর্কতা নেই। তবে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে ২ নভেম্বর সকাল থেকে ৪০-৫০ দমকা ৬০, ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ৩ নভেম্বর দুপুর পর্যন্ত ৫০-৬০ দমকা ৭০ কিমি ঝোড়ো হাওয়া। সমুদ্র উত্তাল থাকবে। মৎস্যজীবী জন্য বাংলার উপকূলে কোন সতর্কতা নেই। তবে ২ থেকে ৪ নভেম্বর পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে না যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে আবহাওয়া দফতর।
