কলকাতা : আয়লা থেকে ফণী, আমফান থেকে ইয়াস, অতীতে এই সমস্ত ঘূর্ণিঝড়ই আছড়ে পড়েছে মে মাস নাগাদ। এবারের মে-ও কি তেমন কোনও দুর্যোগের সাক্ষী থাকবে ? বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম ইতিমধ্যেই আগাম ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছেন। বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত থেকে নাকি তৈরি হতে পারে , রাক্ষুসে গতির এক ঘূর্ণিঝড়। তাদের দাবি, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করা হবে শক্তি । শ্রীলঙ্কা দেওয়া হয়েছে এই নাম। তবে Regional Meteorological Centre (RMC) তেমন কোনও আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। তবে আশঙ্কা একটাই, ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে দেখলেই দেখা যাবে, ফি বছর এই রকম সময়ে ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা!
টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশ, RMC সূত্রে খবর, ১৬ থেকে ২২ মে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের কাছে একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। রবিবার জানিয়েছে আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্র । যেহেতু গত পাঁচ বছর ধরে প্রতি মে মাসে এই ধরনের ঘূর্ণাবর্ত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে, তাই এই ঘূর্ণাবর্তটিওও একটি বড় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করছেন।
আবহাওয়া দফতরের অভিমত, এই ঘূর্ণাবর্ত আদৌ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, হলেও কতদূর অগ্রসর হবে তা ভবিষ্যদ্বাণী করা যাবে না। পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যদিও আবহাওয়া দফতর বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখছে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
কিন্তু এই মে মাসেই কেন বারবার ধেয়ে আসে ঘূর্ণিঝড়? বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের জলের উষ্ণতা বৃদ্ধি এর অন্যতম বড় কারণ । মে মাসে ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা বাড়ে, তার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাইক্লোন সিজন এবং জলীয় বাষ্প যুক্ত পুবালী হাওয়া। এবারও কি সেই মে মাসে ধেয়ে আসবে কোনও ঘূর্ণিঝড় ? এই সপ্তাহের শেষে মধ্যেই চিত্রটা পরিষ্কার হতে পারে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া দফতর ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে, বিএমডি ঝড়ো বাতাস সহ বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে , রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেট এলাকায়। ইতিমধ্যে, এই অঞ্চলের নদী বন্দরগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ। বাংলাদেশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ দল (BWOT) জানিয়েছে, ১৬-১৮ মে এর মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি আবহাওয়া সঞ্চালন তৈরি হতে পারে, যা ধীরে ধীরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। আর তা ঘিরেই আগাম সতর্কতা।