কলকাতা: রাজ্যে পালা বদলের পর একের পর এক মেয়র ও মেয়র পারিষদের পদত্যাগের জেরে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ। গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে বেহাল পথ। খানাখন্দে জল জমে রাস্তা যেন আস্ত মারণফাঁদ! এই বিষয়ে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেছেন, 'ভুক্তভোগী তো ১৫ বছর ধরে আমরা হয়েছি। তখনতো তৃণমূলের কাউন্সিলররা ছিল।' ভরা বর্ষায় চরমে দুর্ভোগ। পদে পদে মৃত্যুফাঁদ! বলে না দিলে বোঝার উপায় নেই এটা রাস্তা! রাস্তায় নেমে যেখানে রীতিমতো খুঁজতে হয় পা ফেলার জায়গা, সেখান দিয়েই চলছে বাস-ট্যাক্সি-অটো। ৪ মে নতুন সরকার রাজ্যে আসার পর কলকাতা পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়া এবং একের পর এক মেয়র ও মেয়র পারিষদের পদত্যাগের জেরে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

Continues below advertisement

রাজনৈতিক এই টানাপোড়েনের মধ্যে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দৈনন্দিন পুর পরিষেবা পেতে যখন, কোথায় যাবেন বুঝে উঠতে পারছেন না, তখন গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিয়েছে বেহাল রাস্তা। দমদম রোড, ভিআইপি রোড, সল্টলেক, গড়িয়া স্টেশন রোড একই ছবি, আনন্দপুরে পাসপোর্ট অফিসের সামনের রাস্তার।এই পরিস্থিতির জন্য পুরমন্ত্রী আগেই দায়ী করেছেন তৃণমূলকে। ফিরহাদ হাকিমকে দায়ী করেছেন বিধায়ক ও 'কালীঘাট-তৃণমূল'-এর মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। অগ্নিমিত্রা পাল বলেছেন, 'আজকে তৃণমূলের কাউন্সিলররা যে মুহূর্তে দেখল যে নতুন সরকার এসে গেছে তারা আর ওই আন্ডার দ্য টেবিল ডিলিং গুলো করতে পারবে না, তারা ছেড়ে চলে গেল। এতটাই দায়িত্বজ্ঞানহীন আমি বলব।নতুন সরকার আসার পর অন্তত সেই সামান্যটুকু অন্তত দেখানো উচিত ছিল। আমাদের সরকার নেই তো কি হয়েছে? সামনে বর্ষাকাল, নতুন সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটু সাহায্য করে দিই।'কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, শহরে মোট বেহাল রাস্তা ১৮টি। তার মধ্যে খুব খারাপ অবস্থা ১১টি, মাঝারি খারাপ ৩টি এবং অপেক্ষাকৃত কম খারাপ ৪টি। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, বিভিন্ন এলাকায় প্যাচওয়ার্ক ও জরুরি মেরামতির কাজ চলছে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিকে আরও টেকসই করতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আকচাআকচি চলছেই। কিন্তু কলকাতার রাস্তার সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে কবে? উত্তরা অধরা।

Continues below advertisement