কলকাতা : দুর্নীতি ও সম্পত্তির হিসাব নয়ছয়ের অভিযোগে গ্র্রফতরা হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর ও তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সীর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী। বুধবার পুরুলিয়া থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েও কোনও লাভ হয়নি। গ্রেফতার হন তিনি। কিন্তু, পুলিশের নজর এড়াতে কলকাতা ছেড়ে ভূভারত পর্যটন করেছেন দেবরাজ চক্রবর্তী। পুলিশের দাবি, ১৫ দিনে মোট ৭ বার ঠিকানা বদলে গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। দেবরাজ-কাণ্ডে ৮ সদস্যের SIT গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে বিধাননগর কমিশনারেট। ইতিমধ্যে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

Continues below advertisement

আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হতেই, পুলিশের চোখ এড়াতে কার্যত দেশভ্রমণে বেরিয়ে পড়েছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। বাসে বাসে ঘুরেছেন, ছোট ছোট হোটেলে থেকেছেন, নগদে মিটিয়েছেন সব খরচ।তবু শেষরক্ষা হয়নি। বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ ও প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরকে বুধবার ঝাড়খণ্ডের মুরির রিসর্ট থেকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স!

কীভাবে ডেরা পরিবর্তন ? ৭ বার ঠিকানা বদলে কোথায় কোথায় ছিলেন ?

Continues below advertisement

প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামীর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে জমা হয়েছে গুচ্ছ অভিযোগ। তোলাবাজি, সিন্ডিকেটরাজ-সহ বহু বিষয়ে বাগুইআটি থানাতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মোট ১০ জন। পুলিশ সূত্রে খবর, কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করতেই, ১৫ জুন কলকাতা ছাড়েন দেবরাজ চক্রবর্তী। ল্টলেকের করুণাময়ী থেকে বাস ধরে প্রথমে পৌঁছে যান পড়শি রাজ্য ওড়িশায়। তারপর অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কেরলম হয়ে ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর, ধানবাদ হয়ে একটি রিসর্টে আশ্রয় নেন দেবরাজ চক্রবর্তী।পুলিশের দাবি, ১৫ দিনে মোট ৭ বার ঠিকানা বদলে গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। পুলিশের নজর এড়াতে রীতিমতো পরিকল্পনা করেই পথে বেরিয়েছিলেন অদিতি মুন্সির স্বামী।

ডেরা পরিবর্তন নিয়ে পুলিশ কী জানিয়েছে ?

পুলিশ সূত্রে খবর, ওড়িশা থেকে বিভিন্ন রাজ্য হয়ে ঝাড়খণ্ডে পৌঁছনো ও থাকা-খাওয়া সহ যাবতীয় খরচ নগদে মেটান দেবরাজ চক্রবর্তী। গোটা রুটে তিনি গড়ে একরাত করে সেখানকার বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া ছোট হোটেলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ID কার্ড হিসাবে ব্যবহার করেছিলেন নিজের ভোটার কার্ড। পুলিশের দাবি, ট্র্যাকিং এড়াতেই কিনেছিলেন নতুন মোবাইল, নিয়েছিলেন নতুন সিমও। গ্রেফতারির পর দেবরাজ চক্রবর্তীর থেকে সেই মোবাইল ফোন ও ২০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।