কলকাতা : দিল্লিতে 'খুন' হলেন এক বাঙালি অধ্যাপক। মৃতার নাম দেবস্মিতা পাল। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বসুন্ধরা এনক্লেভ এলাকার সত্যম অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ফ্ল্যাটের ভিতর থেকেই দেবস্মিতার দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মাথায় ভারী কোনও বস্তু দিয়ে আঘাত করেই তাঁকে খুন করা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও ফরেন্সিক দল। ইতিমধ্যেই ফ্ল্যাট থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন দেবস্মিতা পাল। পুলিশ সূত্রে আরও খবর, বেঙ্গালুরুতে বসবাসকারী তাঁর স্বামীর থেকে আলাদা থাকতেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় ২টা ৩৫ মিনিট নাগাদ নিউ অশোক নগর থানায় ফোন আসে। ফোন করেছিলেন দেবস্মিতার দিদি দেবারতি পাল। তিনিই জানান, তাঁর বোনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ জানায়, সকাল থেকে ফ্ল্যাটটি বাইরে থেকে বন্ধ ছিল এবং দেবস্মিতা ফোনও ধরছিলেন না। কোনও অঘটনের আশঙ্কায় দেবারতি পাল দরজার তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। তখনই তিনি বোনের রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মাথায় ভারী কোনও বস্তু দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়েছে দেবস্মিতাকে। তাঁর মাথায় গভীর ক্ষত ছিল। এছাড়াও হাতের কবজির শিরাও কাটা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয়েছে এলবিএস হাসপাতালে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ফ্ল্যাটে থাকা গয়না ও নগদ টাকা অক্ষত অবস্থায় মিলেছে। ফলে ডাকাতি বা লুটপাটের উদ্দেশ্যে খুন হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে না। ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করেছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তে একাধিক দল গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে এসেছে বলে দাবি পুলিশের। খুব শীঘ্রই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদী তদন্তকারীরা।
অ্যাপার্টমেন্টের CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, দেবস্মিতার পরিচিত ও ঘনিষ্ঠদেরও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে তদন্তকারীরা। তাঁর সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত সংঘাত ছিল কি না, কারও কাছ থেকে হুমকি পাচ্ছিলেন কিনা, পারিবারিক সম্পর্কই বা কেমন ছিল, তা নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে পুলিশ। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিচিতমহলে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মী ও পড়ুয়াদের মধ্যেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
