সমীরণ পাল, উত্তর ২৪ পরগনা: বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে ছাই ৫০টি দোকান। কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি, মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের। 

Continues below advertisement

রবিবার গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানার কলমবাগান বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাজারে একে পর এক দোকানে। পুড়ে যায় প্রায় ৫০ টির কাছাকাছি দোকান। 

মাছ, সবজি, চাল, মুদিখানা ও কসমেটিক্সসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায় কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এই বিধ্বংসী আগুনে। প্রায় সর্বস্ব খুইয়ে দিশেহারা অবস্থা ব্যবসায়ীদের।

Continues below advertisement

জানা গিয়েছে, দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে কলমবাগান এলাকায় এই বাজার রয়েছে। গতকাল মধ্যরাতে সেই বাজারেই আগুন ধরে যায়। মুহুর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে, একের পর এক দোকান পুড়তে শুরু করে। 

স্থানীয়রা প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। পরবর্তীতে খবর দেওয়া হয় বনগাঁ দমকল বিভাগে। খবর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী, তত সময়ে আগুন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। দমকলের দুটি ইঞ্জিনের দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে হলেও দোকানের কিছু কাঠামো আর কংক্রিট ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। ব্যবসায়ীদের কথায় কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে কি কারনে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটলো তা এখনো স্পষ্ট নয়।

অন্যদিকে, ডোমজুড়ের জঙ্গলপুরে জ্বালান কমপ্লেক্সে একটি বৈদ্যুতিক পাখা তৈরীর কারখানায় ভয়াবহ আগুন। আজ সকাল ছটা নাগাদ কারখানা টিতে আগুন লাগে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে কারখানার ভেতরের মেশিন এবং কাঁচামাল। কালো ধোঁয়ায় আকাশ ছেয়ে যায়। আগুন আশপাশের কারখানায় ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। কর্মীরা দ্রুত জল ঢেলে আগুন আয়ত্তে আনার চেষ্টা করলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। খবর দেওয়া হয় দমকলে। একে একে ঘটনাস্থলে দমকলের চারটি ইঞ্জিন আসে। দমকল কর্মীরা দ্রুত আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। সকালে আগুন এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন আগুন নেভাতে আরো একটু সময় লাগবে।

অন্যদিকে, গতকাল রাতে জগৎবল্লভপুরের শঙ্করহাটি গ্রামে একটি কম্বল তৈরীর কারখানায় ভয়াবহ আগুন। আগুন লাগার পর কারখানাটিতে মজুদ থাকা তুলোর কাপড় এবং পাটের ছাঁট দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। কারখানার কর্মীরা এবং আশপাশ থেকে গ্রামবাসীরা আগুন নেভানোর কাজে হাত দিলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।  

গ্রামবাসীরা দমকলে খবর দিলে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে একে একে চারটি ইঞ্জিন। দমকল কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। গোটা কারখানা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কি কারণ আগুন লাগল তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ইলেকট্রিক্যাল শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুন লাগতে পারে। খতিয়ে দেখছে দমকল।