ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, কলকাতা:৬ মাস বাড়ল রাজ্য পুলিশের DG-র চাকরির মেয়াদ। রাজ্য পুলিশের DG সিদ্ধিনাথ গুপ্তের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি হয়েছে। ৩০ এপ্রিল অবসর নেওয়ার কথা ছিল সিদ্ধিনাথ গুপ্তের। রাজ্য পুলিশের DG-র মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবে অনুমোদন কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিটির। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, অভিষেকের সভায় যাওয়ার পথে TMC সাংসদের গাড়িতে হামলার অভিযোগ ! ভেসে এল কান্নার আওয়াজ, আর্তনাদ, রণক্ষেত্র আরামবাগ..

Continues below advertisement

কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিটি , ক্যাবিনেটের অ্যাপয়েনমেন্ট কমিটি, তাঁদের কাছে মিনিস্ট্রি অব হোম অ্যাফেয়ার্স, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, যে কিছু দিন আগে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধিনাথ গুপ্তকে রাজ্য পুলিশের ডিজিপি করেছিল। যার মেয়াদ আগামী ৩০ এপ্রিল ২০২৬ অবধি ছিল, অর্থাৎ ওই তারিখে অবসর নেওয়ার কথা ছিল সিদ্ধিনাথ গুপ্তের। সেই জায়গায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে একটা প্রপোজাল দেওয়া হয়, কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিটিকে।  সিদ্ধিনাথ গুপ্তের চাকরির মেয়াদ যেন আরও ৬ মাস বৃদ্ধি করা হয়। যে আবেদন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিটি সেটা অনুমোদন করেছে।

 মূলত, ভোটের আগে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ পদে রদবদল হয়। পীযূষ পাণ্ডের জায়গায় রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত ডিজি-র দায়িত্ব নেন সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। কলকাতার পুলিশ কমিশনারও বদল হয়। সুপ্রতিম সরকারের জায়গায় দায়িত্বে আসেন অজয় কুমার নন্দ। এডিজি আইনশৃঙ্খলা পদ থেকে সরানো হয় বিনীত গোয়েলকে, তার জায়গায় আসেন অজয় মুকুন্দ রাণাডে। ডিজি কারেকশনাল সার্ভিসেসের দায়িত্বে আসেন এন আর বাবু। অর্থাৎ একটা বিষয়, জাতীয় নির্বাচন কমিশন ,  একটা বার্তা দিতে চাইছে, যে কোনও ধরনর আমলাই হোক না কেন, এক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচন কমিশন, পুলিশ প্রশাসনকে একটা বার্তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সিদ্ধান্তগুলি দেখে  মনে হচ্ছে, জাতীয় নির্বাচন কমিশন ছাব্বিশের নির্বাচনে, পুলিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিজের মতো চালাবে। এবং নিজের মতো পছন্দের অফিসার, বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্বে রেখেছেন। 

প্রসঙ্গত, এসআইআর পর্ব থেকেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের সংঘাত শুরু হয়। এসআইআর পর্ব চলাকালীন রাজ্যের কয়েকজন অফিসারের বিরুদ্ধে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিতে পারে ,কিন্তু সময়মত কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না ?  সে জন্য প্রথমে এর আগের মুখ্যসচিব যিনি ছিলেন,  তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। কৈফয়ত তলব করা হয়েছিল। মনোজ পন্থ অবসর নেওয়ার পর যখন, নন্দিনী চক্রবর্তী মুখ্যসচিব পদে দায়িত্ব নেন, তখন তাঁকেও ডেকে পাঠিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তার কাছেও কৈফিয়ত তলব চাওয়া হয়েছিল।অর্থাৎ ভোটের আগে থেকেই একের পর এক ইস্যুতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন, রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতের পথে গিয়েছে।