গৌতম মণ্ডল ডায়মন্ড হারবার: 'ডায়মন্ড মডেল' ভেঙে চুরমার, ডায়মন্ড হারবার পুরসভায় (Diamond Harbour Municipality) প্রশাসক নিয়োগ।

Continues below advertisement

পালাবদলের পর বিভিন্ন পুরসভায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের গণইস্তফা। ১৬ কাউন্সিলরকে নিয়ে তৈরি এই পুরসভা বিরোধী শূন্য ছিল। তবে এই ১৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ডায়মন্ড হারবারের আটজন তৃণমূল কাউন্সিলর আগেই, ১৯ মে পদত্যাগ করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল তাঁরা পুরসভার অধিবেশনে যোগ দিলেও, তাঁদের কথা শুনে ঠিকমতো উন্নয়নের কাজ করা হত না। তাছাড়া ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগও আনেন তাঁরা। ওই পদত্যাগী কাউন্সিলদের দাবি ছিল পুরসভার বিভিন্ন কাজে পুলিশ ও প্রশাসন হস্তক্ষেপ তো করতই, উপরন্তু পুলিশ তাঁদের ওপর অত্যাচারও করত।

 
Continues below advertisement

প্রথমে তাই আটজন কাউন্সিলর পদত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে আরও এক কাউন্সিলর সেই দলে যোগ দেন। নয়জন কাউন্সিলর পদত্যাগ দেওয়ার পরে পুরসভার বিদায়ী চেয়ারম্যান প্রণব দাস বিষয়টি নগরোয়ন্ন দফতরকে জানান এবং নয়জন কাউন্সিলরের ইস্তফাপত্রও পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তারপরেই নগরোয়ন্ন দফতর থেকে ডায়মন্ড হারবার পুরসভার আধিকারিককে প্রশাসক নিয়োগ করার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়।                

তাই এবার ডায়মন্ড হারবারে পুরবোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করা হল। ডায়মন্ড হারবার পুরসভায় প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হল ডায়মন্ড হারবারের মহকুমা শাসক অয়ন দত্তগুপ্তকে। তিনি আজ থেকেই দায়িত্ব নেন।                 

আরও পড়ুন:- দুর্গাপুর স্টিল প্লান্ট এর জমিতে তৃণমূলের কার্যালয়, চলল বুলডোজার, গ্রেফতার ব্লক সভাপতি রাজীব ঘোষ 

২০২২ সালে ডায়মন্ড হারবার পুরসভার নির্বাচন হয়েছিল। সেই পুরসভার মেয়াদ এখনও আট থেকে নয় মাস ছিল। সেখানে বিরোধী শূন্যভাবেই ১৬টি আসন পেয়েছিল তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। ফলতায় মুখ থুবড়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান চতুর্থ স্থানে শেষ করেন। সেই ফলতার পাশেই এই ডায়মন্ড হারবার পুরসভা। সেখানেই এবার বড় বদল হল। একাধিক কাউন্সিলর বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তাঁরা দুর্নীতি, স্বজনপোষণ ও পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে ইস্তাফা দেওয়ায় পুরসভা ভেঙে গেল এবং প্রশাসক নিয়োগ করা হল।