কলকাতা: বিধানসভা ভোটের মুখে দার্জিলিঙে দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ শিলিগুড়ির মাটিগাড়ায় মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর মুখ্যমন্ত্রীর মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস নিয়ে মন্তব্য দিলীপ ঘোষের।              

Continues below advertisement

দিলীপ ঘোষ বলেন, 'খারাপ লোকও ভাল কাজ করে। কে মন্দির বানাল, সেটা বড় কথা নয়। ভাল-খারাপ সবাই মন্দির বানাতে পারে'। 

এদিকে গত বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বুধবার দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষ। এরপরই রাজ্য-রাজনীতির বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছিলেন বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি। 

Continues below advertisement

যদিও সেই সময় এই বিতর্ক চলাকালীন দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরে যাওয়া প্রসঙ্গে মুখ খুলেছিলেন দিলীপ। বিজেপি নেতা বলেছিলেন, 'দিঘায় যাওয়া নিয়ে আমাকে ইস্যু করা হয়েছে। কার মন্দির? ভগবান জগন্নাথ দেবের মন্দির, কেন যাব না? প্রয়োজন-অপ্রয়োজন অনেক কিছু। আমাকে বর্ধমানে লড়তে পাঠান হল এটা প্রয়োজন ছিল? রঙ দেখে, মুখ দেখে আমি রাজনীতি করি না। কিছু লোক ভয়ে থাকে সবসময় রাজনীতিতে হারিয়ে যাবে। দিলীপ ঘোষ এসবে ভয় পায় না।'

দিলীপ ঘোষের দিঘায় জগন্নাথ দর্শনের পর কার্যত ঝড় উঠেছিল বিজেপির অন্দরে। অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন সুকান্ত মজুমদার। কটাক্ষ করেছিলেন বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁ-ও। তিনি বলেছিলেন, দিলীপ ঘোষ তাঁর জেলায় ঢুকলে, বিক্ষোভ দেখাবেন বিজেপি কর্মীরা। অর্জুন সিং আবার দিলীপ ঘোষের সঙ্গে তৃণমূলের গোপন আঁতাঁতের অভিযোগ করেছিলেন। সেই সময় অবশ্য বিজেপি নেতাদের নাম ধরে ধরে পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ।                                                

এদিকে, বিকেল ৪টে নাগাদ শিলান্যাস করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিলিগুড়ির মাটিগাড়াতে প্রায় ১৭ দশমিক ৪ একর জমিতে তৈরি হবে মহাকাল মন্দির। মূল মন্দিরের সঙ্গে থাকবে ১০৮ ফুট উঁচু ধাতু দিয়ে তৈরি শিবমূর্তি।

সেখান থেকে সোজা উত্তরকন্যায় চলে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। রাতে সেখানেই থাকবেন। সেখান থেকে আগামীকাল কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবন উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী।

এর আগে গত বছর অক্ষয় তৃতীয়ার দিন দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন করেছিলেন, আর ২০২৫-এর ২৯ ডিসেম্বর, নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন মমতা।