কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের সদ্য প্রাক্তন তিন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইককে বিজেপিতে যোগদান করিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই রাজ্যসভার প্রার্থী করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিজেপির অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দলের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের সংগঠনের কর্মীদের উপেক্ষা করে সদ্য দলবদল করা নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এই বিতর্কের আবহেই সোমবার ফের একবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ফের দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, "বিজেপির তৃণমূলীকরণ হবে না। তৃণমূল সম্পর্কে যত কম কথা বলা যায় ততই ভাল। তৃণমূল এখন নির্মূল। মানুষ তৃণমূলের কোনও আলোচনা শুনতে চাইছে না। বিজেপির জন্য তৃণমূলের দরজা বন্ধ।"

Continues below advertisement

দিলীপ ঘোষের বক্তব্য 

এই ইস্যুতে  রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, "তৃণমূলের প্রাক্তনীই আজ আমাদের মুখ্যমন্ত্রী। আমাদের পার্টির বিধানসভার নেতা। ভারতবর্ষে বিজেপি বিভিন্ন দলের যোগ্য মানুষকে সঙ্গে নিয়েই বেড়েছে। রাজ্যসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। দল যাঁদের স্বীকৃতি দিয়েছে, তাঁরা নিজেদের পদেই থাকবেন, শুধু আমাদের আসনে বসবেন।"

Continues below advertisement

তিন প্রার্থীকে ঘিরে কেন বিতর্ক?

সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরপরই তাঁদের রাজ্যসভার প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। আর সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই বিজেপির অন্দরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে।কোচবিহার দক্ষিণের প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক নিখিলরঞ্জন দে প্রশ্ন তোলেন, "বিজেপির মধ্যে কি যোগ্য মানুষ ছিল না? শিক্ষিত মানুষ ছিল না? আদর্শবান নেতৃত্ব ছিল না, যাঁদের রাজ্যসভার সাংসদ করা যেত?"

আগের বক্তব্য বনাম বর্তমান অবস্থান

এই তিন নেতার বিজেপিতে যোগদানের পর বিজেপির কর্তাব্যক্তিদের পুরনো কিছু বক্তব্যও নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। এর আগে বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার প্রকাশ চিক বরাইকের বিরুদ্ধে গরুপাচার ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা-ও প্রকাশ চিক বরাইকের বিরুদ্ধে তদন্ত ও গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছিলেন। অথচ বিজেপিতে এদের যোগদানের দিন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "এরা প্রত্যেকেই গুণীজন, বিদগ্ধ মানুষ। এদের নামের আগে পদত্যাগী, দলত্যাগী বা তৃণমূলী শব্দ ব্যবহার করবেন না। এই মুহূর্তে সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকের একমাত্র পরিচয় তাঁরা বিজেপি কর্মী।"

মনোনয়ন জমা

সোমবার মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতির উপস্থিতিতে এই তিন নেতা রাজ্যসভার নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপির এই পদক্ষেপ আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, বিরোধী শিবিরের নেতাদের দলে টেনে এনে সংসদে শক্তি বাড়ানোর কৌশলই কি এখন বিজেপির প্রধান লক্ষ্য? সিপিএমও এই প্রসঙ্গে নীতিগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল নেতাদের দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিজেপির অন্দরের অসন্তোষ আগামী দিনে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই নজর থাকবে।