কলকাতা : সিপিএম-এর রাজ্য কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন আগেই। সোমবার সকালে দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন প্রতীক উর রহমান। এরপর একের পর এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে,প্রতীক উর সরাসরি মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। পার্টির কর্মপদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এরই মধ্যে হঠাৎ জল্পনা তৈরি হয়, তাহলে কি প্রতীক উরের পথেই যাচ্ছেন তরুণ বাম নেত্রী, দীপ্সিতা ধর? তিনিও নাকি দলের সদস্য পদ রিনিউ করেননি। তাহলে কি দলের কারও কারও বিরুদ্ধে বীতশ্রদ্ধ দীপ্সিতাও? হাজারো জল্পনার মধ্যে উত্তর দিলেন দীপ্সিতা নিজেই। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তিনি সিপিএমের প্রাথমিক সদস্যপদ পুনর্নবীকরণই করাননি।

Continues below advertisement

সিপিএমের দলীয় সদস্যপদ নবীকরণের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম আছে। প্রতি বছরই দলের সদস্যপদ রিনিউ করাতেই হয়। নিয়ম অনুসারে, প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে এই কাজ করতে হয়। তবে  সিপিএমে বিভিন্ন স্তরে অনেকের সদস্যপদ থাকে, সেক্ষেত্রে রিনিউ করার নিয়মও আলাদা আলাদা। ফেব্রুয়ারির অর্ধেক কেটে গেলেও দীপ্সিতা সদস্যপদ রিনিউ না করায় এত জল্পনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাম নেত্রী বলছেন, ৩১ মার্চের মধ্যে এই কাজ করতে হয়, তাই হাতে এখনও যথেষ্ট সময় আছে। তাই এই জল্পনার কোনও মানে হয় না। দীপ্সিতা সেই সঙ্গে কিছুটা বিরক্তিও প্রকাশ করেন, কারণ তিনি মনে করেন, বিষয়টি একেবারে তাঁর এবং তাঁর দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাই এই বিষয়ে সকলকে ব্যাখ্যা দিতে হবে কেন!  তাছাড়া, তাঁর সদস্য পদ দিল্লিতে। সদ্যই ফিরেছেন বিদেশ থেকে । তাই এখনও দিল্লি গিয়ে সদস্যপদ রিনিউ করা হয়নি। 

সম্প্রতি পার্টির রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রতীক উর রহমান। তিনি বলে ন, পার্টিতে এখন ডর কা মহল। ভয়ের পরিস্থিতি। 'গব্বর সিং আছে কিছু বলা যাবে না। কিতনে আদমি থে। বলা যাবে না। বলেছিল, সর্দার দো আদমি থে। এখানে সেটিও বলা যাবে না। সর্দার যা বলবে, সাহেব যা বলবে সেটাই করতে হবে। কী কালচার কমিউনিস্ট পার্টিতে ? ' 

Continues below advertisement

প্রতীক উরের এমন সিদ্ধান্তের পরই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তৈরি হয়েছে।  অনেকেরই মনে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, তাহলে কি এবার বামফ্রন্টের নব যৌবনের দূতরা পার্টি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে? তবে দীপ্সিতা আপাতত সেই জল্পনা নস্যাৎ করলেন।