ভাস্কর মুখোপাধ্য়ায় ও কৌশিক গাঁতাইত, রাজা চট্টোপাধ্য়ায়, কলকাতা: বীরভূমের সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল জেলা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। গ্যাসের হাহাকারের ছবি ধরা পড়ছে বহু জায়গাতেই। এই অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন না হলে কীভাবে চলবে? বুঝে উঠতে পারছেন না কেউই। 

Continues below advertisement

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচে দেশ জুড়ে গ্যাসের হাহাকার! পরিস্থিতি সামাল দিতে অত্য়াবশ্য়কীয় পণ্য আইন জারি করেছে কেন্দ্র। আপাতত বাণিজ্যিক গ্যাস ছেড়ে রান্নার গ্যাসকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা থেকে জেলার হাসপাতাল গুলিতেও গ্য়াসের সঙ্কটের ছবি ধরা পড়েছে।

বীরভূমের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ক্যান্টিনে গ্যাস সঙ্কট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসক ও নার্স মিলিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০০ জন এই হাসপাতালের ক্যান্টিনে খাওয়াদাওয়া করেন। বর্তমানে বাণিজ্যিক গ্যাসের আকালে চড়া দামে কিনতে হয়েছে সিলিন্ডার।

Continues below advertisement

রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্টিন মালিক অভিজিৎ রায় বলছেন, 'কবে যে সঙ্কট মিটবে? বুঝতে পারছি না। সেরকম হলে বন্ধ করতে হবে, তাছাড়া তো উপায় নেই। দেখি কাঠের জ্বালে রান্না করতে হবে তাহলে।' বীরভূমের সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেও দেখা গেছে গ্যাস সঙ্কট। এই হাসপাতালে প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ১৫০০ রোগীর রান্না হয়। দিনে ২ থেকে ৩টে করে গ্যাস লাগে। সেখানে আপাতত এক দিনের স্টক রয়েছে।

সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের কিচেন ম্যানেজার সঙ্গীতকুমার খাঁড়া বলছেন, 'এখন এক দিন থেকে দেড় দিনের স্টক আছে। কিন্তু আগে, বিগত এক মাস আগে আমার ১৫ দিনের স্টক থাকত। ৫ টার বেশি পাচ্ছি না। বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে আমাদেরকে। ইলেকট্রিক কাঠকয়লা এসব ব্যবস্থা করতে হবে'।

একইভাবে গ্যাসের আকাল দেখা গেছে নানুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। বীরভূমের নানুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের রাঁধুনি তকলিমা বিবি বলছেন, 'অনেক সমস্যা হচ্ছে। গ্যাস যদি না পাই, তাহলে আমি কী করে রান্না করব? কী করে দেব রোগীদের? এখন গ্যাস ফাঁকা।' পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল জেলা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেও একই ছবি। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিদিন প্রায় সাড়ে সাতশো রোগীর খাবারের যোগান দিতে হয় তাদের। ভরসা বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার।

তবে এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি, তাতে মজুত সিলিন্ডার দিয়ে আর মাত্র কয়েকটা দিন চালানো যেতে পারে। আসানসোল জেলা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের রাঁধুনি মন্টু দাস বলছেন, 'গ্যাসের দাম বেড়েছে। গ্যাস যদি না পাওয়া যায়, তাহলে রান্না করা তো মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। কিচেনটা হচ্ছে রোগীদের জন্য। রোগীরা যদি ঠিকঠাক সময়মতো খাবার যদি না পায়, তাহলে সমস্যা হবে। খাবার বন্ধ করতে হবে।'

এখনও তবু চালানো যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কীভাবে চলবে? বুঝে উঠতে পারছেন না কেউই।