অরিন্দম সেন, আলিপুরদুয়ার: ঠিক বছর দু'য়েক আগে অগ্নিকান্ডে ভষ্মিভূত হয়েছিল জলদাপাড়া (Alipurduar News) জাতীয় উদ্যানে কাঠের নির্মিত হ্যারিটেজ হলং বনবাংলো (Hollong Forest Bungalow)। ২০২৪ সালের ১৮জুন রাতের অন্ধকারে আগুনে ভষ্মিভূত হয়ে যায় ১৯৬৭ সালে তৈরি এই বাংলোটি। গত বছর ডিসেম্বরে তৎকালীন রাজ্য সরকারের তরফে সেটিকে একেবারে পুরনো রূপে ফিরিয়ে আনতে পুনরায় তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

Continues below advertisement

সেইমতোই, ডিপিআর (ডিটেল প্রজেক্ট রিপোর্ট) ও এস্টিমেট তৈরি করতে পূর্ত দফতরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। হলং বনবাংলোর পুরনো নকশাও তুলে দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী নতুন নকশা তৈরি হয়। গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরুতেই বন দফতরর তরফে আগের রূপেই নতুন হলং বনবাংলো তৈরির প্রশাসনিক অনুমোদন মেলার কথা জানানো হয়েছিল। যার জন্য খরচ ধরা হয় প্রায় ৩কোটি ৮০লক্ষ টাকা। ডিসেম্বর মাসের শুরুতেই হলং বনবাংলো তৈরির টেন্ডারও ডাকা হয়। তারপর কাজ চলতে থাকে।

উল্লেখ্য, বন দফতর তরফে আগেই জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা ও অগ্নি নির্বাপনের কথা মাথায় রেখে এবার আর শুধুমাত্র কাঠের নয়, বরং বাংলোর মূল কাঠামোটা কংক্রিটের হবে। তবে পুরনো রূপ দিতে তার বাইরে ও ভেতরে থাকবে কাঠ (উডেন ক্ল্যাডিং)।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন:- সব্যসাচী দত্তের মামলায় এবার উঠে এল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গ, নগদ ও সোনা মিলিয়ে উদ্ধার কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি! 

জলদাপাড়ার গভীর জঙ্গলে এই বাংলোটির সব থেকে বড় আকর্ষন ছিল, কিছু দূরের ‘সল্ট পিট’। রাতে যেখানে নুন চাটতে আসে বন্যপ্রাণীরা। এছাড়া বিভিন্ন বন্যজন্তু ও পাখিদের সান্নিধ্য ভোগ করার জন্য দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিল হলং বন বনবাংলো। ফলে বাংলোটি পুড়ে যাওয়ায় মন খারাপ হয় পর্যটন মহলেও। বন দফতরের কর্তারা অবশ্য জানাচ্ছেন, এবার সেই মন খারাপ দূর হতে চলেছে।

আজ বাংলার বিজেপি শাসিত রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও (Manoj Kumar Oraon) পরিদর্শন করেন সেই নির্মীয়মান বাংলোর কাজ। তিনি বলেন, 'যেভাবে কাজ চলছে চলুক। তবে যা হয়েছিল তা তদন্ত সাপেক্ষ।'  তবে এই বাংলো হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে এখন আর সম্পূর্ন কাঠের হবে না বলে জানান বনমন্ত্রী। এর পাশাপাশি বন ও পর্যটনের উন্নয়নে তিনি বৈঠকও করলেন বক্সা-জলদাপাড়ার বনাধিকারিকসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার হোল্ডারদের সাথে।