সৌভিক মজুমদার, আশাবুল হোসেন ও দীপক ঘোষ, কলকাতা: 'DJ' মন্তব্য মামলায় আজ বুধবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গলার স্বরের নমুনা দিতে নির্দেশ দিয়েছে বিধাননগর আদালত। তার আগে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংক্রান্ত মামলায় কড়া মন্তব্য় করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
'DJ' মন্তব্য মামলায় আরও অস্বস্তিতে পড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশের নোটিসে সাড়া দিন। তদন্তে সহযোগিতা করবেন, এই শর্তেই আদালত আপনাকে (অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়) রক্ষাকবচ দিয়েছিল। কড়া মন্তব্য় করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। বিধানসভা ভোটের প্রচারে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের 'ডিজে' বাজানোর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। ভোটে ভরাডুবির পর অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই উস্কানিমূলক ভাষণ, হুমকি এবং শান্তি বিঘ্নিত করার অভিযোগে বাগুইআটি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়।
FIR খারিজের আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, একজন সর্বভারতীয় দলের সাধারণ সম্পাদক যদি এই ধরনের মন্তব্য করেন, তাহলে চিন্তা করে দেখুন, ভোটের ফল অন্যরকম হলে কী হত? তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে তৃণমূল সাংসদকে। এরপরই কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, আদালতের নির্দেশ ছাড়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে না পুলিশ। ৩০ জুলাই বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে রক্ষাকবচ। এরই মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গলার স্বরের নমুনা দিতে নির্দেশ দিয়ে সময় বেঁধে দেয় বিধাননগর আদালত। হাজিরা না দিয়ে, সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে ফের কলকাতা হাইকোর্টে যান তৃণমূল সাংসদ।সেখানেও জোর ধাক্কা খান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধাননগর আদালতের নির্দেশে কোনও স্থগিতাদেশ দেননি বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।মেলেনি রক্ষাকবচও। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর নির্দেশে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংক্রান্ত মামলার ভার দেওয়া হয় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যকে।
মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি ছিল। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, পুলিশের নোটিসে সাড়া দিন। ইতিমধ্যে তো রক্ষাকবচ দেওয়া আছে। অসুবিধা কোথায়? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীকে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, আপনার মক্কেল (অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়) কি কণ্ঠস্বর দিতে প্রস্তুত নন? তদন্তে সহযোগিতা করবেন, এই শর্তেই আদালত রক্ষাকবচ দিয়েছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শর্তভঙ্গ করে থাকলে আবেদন দাখিল করুক রাজ্য সরকার। তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায় বলেন, আমি স্বীকার করছি ওটাই আমার কণ্ঠস্বর। তারপর আর নতুন করে নেওয়ার কী প্রয়োজন? এটাই ওর (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) বক্তব্য অস্বীকার করলে নেওয়ার প্রয়োজন থাকে। এদিকে বিধাননগর আদালতে গলার স্বরের নমুনা দিতে বুধবার সকাল ১০ টায় দ্বিতীয়বার তলব করা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে।প্রথমবার হাজিরা দেননি। এবার কী করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়?
