সুদীপ চক্রবর্তী, রায়গঞ্জ: প্রায় পাঁচশো বছর আগে বাংলাদেশের (Bangladesh) বণিকেরা বাণিজ্য করতে এসে তাঁদের নৌকা বা বজরা নোঙর করতেন কুলিক নদীর বন্দর ঘাটে। সেই বণিক সমাজের এক সওদাগর দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে কুলিক নদীর ধারে রায়গঞ্জ বন্দরে প্রচলন করেছিলেন দুর্গাপুজার (Durga Puja 2025)। সেই পুজোই আজ রায়গঞ্জ শহরের বন্দর এলাকার বাসিন্দাদের কাছে "রায়গঞ্জ আদি সর্বজনীন দুর্গাপূজা" হিসেবে পরিচিত। সাধারন মানুষ থেকে এলাকার ব্যাবসায়ী, সকলে মিলে চাঁদা দিয়ে এই পূজোর ব্যয় নির্বাহ করে থাকেন।

অতীতে বাংলাদেশের বণিক সমাজ বড় বড় নৌকা আর বজরা নিয়ে বাণিজ্য করতে এসে নোঙর করতেন রায়গঞ্জের বন্দর কুলিক নদীর ঘাটে। কথিত আছে তাঁরাই "রায়গঞ্জ আদি সর্বজনীন" দুর্গোৎসবের প্রচলন করেছিলেন। এরপর কুলিক নদী দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। দেশ ভাগ হয়ে এপার বাংলা ওপার বাংলা হয়েছে। এখন আর কুলিকের জলে ভাসে না বাংলাদেশের বণিকদের বজরা। আসেন না বাংলাদেশের বণিকেরাও। কিন্তু বন্ধ হয়ে যায়নি বণিকদের প্রচলন করা সেই দুর্গাপুজো।

এলাকার বাসিন্দারাই চাঁদা তুলে সর্বজনীনভাবে দুর্গাপুজো করে চলেছেন। প্রায় পাঁচশো বছরের পুরনো সেই একই কাঠামোটিতে আজও দেবীর প্রতিমা নির্মাণ করা হয়ে থাকে। মৃৎশিল্পী এসে এই মন্দিরের মধ্যেই মা দুর্গার প্রতিমা তৈরি করেন। রায়গঞ্জ আদি সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা রূপেশ সাহা জানিয়েছেন, তাঁদের পূর্বপুরুষেরাও জানাতে পারেননি এই পূজোর বয়স ঠিক কত। তবে এখানকার দেবী দুর্গা খুবই জাগ্রত। পুরনো প্রচলিত রীতি মেনে ও নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গেই পুজো করা হয় এখানে। কেউ বলেন, পাঁচশো বছরের পুরনো এই পুজো, আবার কেউ বলেন ছয়শো বছরের পুরনো পুজো। রূপেশ সাহা বলেছেন, 'পুরনো প্রথা মেনে আমরা মাইকে করে জানানোর পরে এই পুজোর কমিটি গঠন করা হয়। আমাদের চাঁদার জন্য কোথাও যেতে হয় না। সবাই এখানে এসেই আমাদের চাঁদা দিয়ে যান। পুরনো নিয়ম মেনে আমাদের এখানে এখনও সেইভাবেই পুজো করা হয়।'

মহাষ্টমীতে হাজার হাজার ভোগের ডালা পড়ে এই মন্দিরে। বিসর্জনের দিন মাকে মন্দির থেকে বের করে মন্দিরের সামনেই সাত পাক ঘোরানো হয়। তারপরে কুলিক ঘাটে নিয়ে গিয়ে নৌকা করে মাঝ নদীতে গিয়ে সেখানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। বিসর্জনের দুই তিনদিন পরে ওই কাঠামোটি নিয়ে এসে মন্দিরে রাখা হয় আগামী বছরের পুজোর জন্য। সুরেশ সাহা নামের এক এলাকাবাসী জানিয়েছেন, পুজোর চারদিন কাজ করতে করতে কীভাবে কেটে যায়, নিজেরাও টের পান না। এই চারটি দিন সবাইকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিভিন্ন কাজের। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হয় দেবীর আরাধনা।