কলকাতা: দুর্গাপুজোকে(Durgapuja 2026) সামনে রেখে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে ইন্দ্রনীল সেনকে(Indranil Sen) ফের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় ED. বৃহস্পতিবার তাঁর আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এই আবহে প্রাক্তন তথ্য়-সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে আজ ফের তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে বড়সড় আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে 'মাস আর্ট' নামে একটি সংস্থার বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, সংস্থার মাথায় রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেন। সেই সূত্রে আতসকাচের নীচে প্রাক্তন মন্ত্রীর ভূমিকাও। 

Continues below advertisement

দুর্গাপুজো নিয়ে দুর্নীতি মামলায় এর আগেও ED দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলের তথ্য-সংসকৃতি প্রতিমন্ত্রী ও 'মাস আর্ট' নামে একটি সংস্থার বিরুদ্ধে ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, অভিযুক্ত 'মাস আর্ট' সংস্থার মাথায় রয়েছেন ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেন। সেই প্রেক্ষিতে ECIR দায়ের করে তদন্তে নামে ED. গত মাসের ২৯ তারিখে ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়ি, আত্মীয়দের ঠিকানা-সহ একযোগে রাজ্য়ের ১৫টি জায়গায় অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় এজেন্সি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তার পরদিন, অর্থাৎ গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ED দফতরে প্রায় ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। এরপরেই ED-র তরফে বিবৃতিতে বলা হয়, ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন সংস্থা থেকে টাকা গেছিল মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের অ্য়াকাউন্টে। সেই সঙ্গে আরও দাবি করা হয়, তথ্য-সংসকৃতি প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন ইন্দ্রনীল সেন তাঁর ২ ঘনিষ্ঠ, 'মাস আর্ট'-এর সম্পাদক ধ্রবজ্য়োতি বসু ও ব্যবসায়ী দীপেশ রায়ের সংস্থাকে ৮৫ কোটিরও বেশি টাকার টেন্ডার পাইয়ে দেন। এরপরই দেখা যায়, ইন্দ্রনীল সেনের দুই ঘনিষ্ঠের সংস্থা থেকে টাকা পাঠানো হয় ইন্দ্রনীল সেনের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থায়।

ইন্দ্রনীল সেনের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন সেই সংস্থা থেকে টাকা তোলা হয়। অন্য়দিকে অকটেভ রেকর্ডস নামে ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন সংস্থায় জমা পড়ে ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। সেই অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ লক্ষ টাকা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে। ED সূত্রে দাবি, এই লেনদেনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, ইন্দ্রনীল সেন দাবি করেন, রয়্য়ালটি হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে ওই টাকা গেছে। এরপরেই ১০ বছরের আর্থিক লেনদেনের তথ্য ও ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত নথি নিয়ে আজ ফের ED দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল ইন্দ্রনীল সেনকে। শুক্রবার ফের তাঁকে তলব করা হয়েছে।

Continues below advertisement