পার্থপ্রতিম ঘোষ, ব্রতদীপ ভট্টাচার্য ও দীপক ঘোষ, কলকাতা: পুলিশের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেছিলেন নির্যাতিতার বাবা। বলেছিলেন, CBI তদন্ত করলে আরেকটু ভাল হত। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আসানসোল দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দিলেন, পরিবার কোন তদন্ত দাবি করছে, সেটা তাদের বিষয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তদন্ত প্রক্রিয়া যতটা এগিয়েছে, তাতে তারা সন্তুষ্ট। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই নির্যাতিতার সহপাঠীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, অভিযোগ গ্রহণ করতে পুলিশ শুরুতে টালবাহানা করেছে..'! দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডে CBI তদন্ত দাবি জানিয়ে বিস্ফোরক নির্যাতিতার বাবা

Continues below advertisement

নির্যাতিতার বাবা বলেন, সিবিআই তদন্ত করলে আরেকটু ভাল হত। দোষীরা ভাল শাস্তি পেত, এটাই আমার বক্তব্য। আসানসোল দুর্গাপুর কমিশনারেট পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধুরী বলেন, পরিবার কী দাবি করছে, সেটা নিয়ে কিছু বলতে পারব না। পুলিশের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে সিবিআই তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন নির্যাতিতার বাবা। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করলেন আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার। বললেন, তদন্ত যে পথে এগোচ্ছে, তারা সন্তুষ্ট।

আসানসোল দুর্গাপুর কমিশনারেট পুলিশ কমিশনার  সুনীল কুমার চৌধুরী বলেন, আমরা সন্তুষ্ট আছি। ২ দিনের মধ্যে আমরা ৫ জন অভিযুক্ত, যারা ঘটনাস্থলে ছিল বলে প্রযুক্তিগত তথ্যপ্রমাণ থেকে জানতে পেরেছি, তাদের গ্রেফতার করেছি।আমরা ওনাদেরকে প্রত্যেক জিনিস মৌখিকভাবে ওনাদের জানিয়েছি। প্রথম দিন আমি নিজে ওনার বাবার সঙ্গে দেখা করলাম। ১ ঘণ্টা ওনার সঙ্গে কথা হল। প্রত্যেকটা জিনিস আমরা জানালাম। আমাদের সব সিনিয়র অফিসারদের (মোবাইল) নাম্বার ওনার কাছে। আশ্বস্ত করছি দোষীরা আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি পাবে। 

 পুলিশের বিরুদ্ধে প্রথমে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন নির্যাতিতার বাবা। যদিও সেইসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন আসানসোল দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার। নির্যাতিতার বাবা বলেন, এখান থেকে যে থানা বিশাল দূর, ওটা তো নয়। সেখানে প্রিন্সিপাল খবর দিয়েছিল থানাকে। থানা তার এলাকা দেখল, আমার মেয়ের দুঃখটা দেখল না। তারপর কী বলল, আর একটা থানা। ওটা কী অত সময় লেগে গেল শুধু এলাকা দেখতে আর তদন্ত করতে? ওরা চাইলে তো সেই সময়ও যে অত্যাচার করেছিল, ওকে তো ধরতে পারত। 

 আসানসোল দুর্গাপুর কমিশনারেট পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধুরী বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের ৩.৩৮-এ থানায় খবর দিয়েছে। তার আগে মৌখিকভাবে অভিযোগ এসেছিল ১টা নাগাদ। আমরা ১.০৫-এ সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মোবাইল গাড়ি যেটা ছিল সেটাকে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের তরফে লিখিত অভিযোগ পাই ৩.৩৮-এ। আমরা সঙ্গে সঙ্গে মামলা দায়ের করি। সঙ্গে সঙ্গে ওসি (নিউটাউনশিপ থানা) নিজে এবং CI ঘটনাস্থলে যান এবং তদন্ত শুরু করেন।  পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, এদিন নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। অন্য়দিকে, সন্দেহের তালিকায় থাকা নির্যাতিতার সহপাঠী ওয়াসেফ আলিকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই নিয়ে দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডে ধৃতের সংখ্য়া বেড়ে হল ৬।