পুলিশের গাড়িতে ডেকে নিয়ে সাদা পোশাকে থাকা পুলিশের হাতে ভাইকে তুলে দিলেন দিদি। ভাই নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করলেও, দিদির সাফ বক্তব্য, 'না করলেও সঙ্গ তো দিয়েছ'। এটাই তো আসল সমাজ সংস্কার! বলছে প্রত্যেকেই। ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে গলা ফাটান অনেকেই, বহু মানুষ বিপ্লবোর ঢেউ তোলেন সমাজমাধ্যমে, কিন্তু নিজের জীবনে আবেগকে সরিয়ে রেখে  ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে পারে কয়জন! দুর্গাপুরের ধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্তের গ্রেফতারির পর এই কথাগুলোই ঘুরে ফিরে আসছে। 

Continues below advertisement

দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার ৩ জন ও সোমবার ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার যে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে সফিক শেখ। কলেজছাত্রীকে গণধর্ষণে অভিযুক্ত সফিক বিজড়া ডাঙাপাড়ার বাসিন্দা। আর তার গ্রেফতারি ঘিরেই সামনে এসেছে টানটান চিত্রনাট্য। 

সফিককে হন্যে হয়ে যখন খুঁজছিল পুলিশ,  তখন তাকে ধরিয়ে দেন খোদ সফিকের নিজের দিদি রোজিনা! আত্মীয়দের বাড়ি বাড়ি ঘুরেও যখন সফিকের নাগাল পাচ্ছিল না পুলিশ, তখন গণধর্ষণে অভিযুক্ত ভাইকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় দিদি রোজিনাই! একজন মেয়ে হয়ে আরেকটি মেয়ের কষ্ট তাঁকে নাড়িয়ে দেয়! তখনই তিনি ঠিক করেন, ভাইকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ব্য়বস্থা করবেন! সূত্রের খবর, ভাই গণধর্ষণে অভিযুক্ত জানার পরই সফিকের শ্বশুর বাড়িতে ফোন করেন তার দিদি। বলেন, সফিক ফোন করলে যেন তাঁকে জানানো হয়। অন্য একটি নম্বর থেকে শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে সফিক। সঙ্গে সঙ্গে সফিকের দিদিকে সেই ফোন নম্বর দেয় তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। সেই ফোন নম্বরে ফোন করে সফিকের খোঁজ পান তাঁর দিদি।

Continues below advertisement

এরপরের চিত্রনাট্য আরও টানটান।  রোজিনা শেখ জানান, ' আমি আবার অন্য নম্বর থেকে ফোন করলাম। একটা ছেলে ধরেছিল। ওই ছেলেটা বলল যে হ্যাঁ দিদি আমি তো না, এখানে একটা দাদা ফোন করেছিল। আমি বললাম দাদা কি আছে? বলল আছে। আমি বললাম দিন তাহলে। ওকে দিল। সফিক আমার সাথে কথা বলল। নাম বলেনি। বলল কেন? আমি বললাম তুই কালকে যেখানে আছিস সারেন্ডার কর। বলল আমি তো কিছু করিনি। বেকার আমাকে মারবে। আমি তো কিছু করিনি। আমি বললাম না করলেও সঙ্গ তো দিয়েছ।'

পলাতক ভাই সফিককে অন্ডাল হাইওয়ের নিচে আসতে বলেন তাঁর দিদি রোজিনা! ভাই পালিয়ে যেতে চাইলেও তাকে ছুঁতোয় আটকায় তার দিদি। তারপর সাদা-পোশাকে পুলিশকে ডেকে ধরিয়ে দেন তিনি। অন্ডাল হাইওয়ের নীচে ভাইকে দাঁড়াতে বলে, পুলিশকে ফোন করেন রোজিনা। অন্ডাল হাইওয়ের নীচে দাঁড়িয়ে ছিল সফিক। তাকে গাড়িতে ডেকে নেন দিদি। এরপর গাড়িতেই পুলিশের কাছে হ্যান্ডওভার করে দেন। আপাতত পুলিশি হেফাজতে রয়েছে অভিযুক্ত সফিক শেখ। দিদি চাইছেন, তদন্ত যাতে নিরপেক্ষভাবে এগোয় এবং সুবিচার হয়।