দুর্গাপুর : দুর্গাপুরের রাষ্ট্রায়ত্ত মিশ্র ইস্পাত কারখানার গেটের পাশে থাকা পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চে বিধ্বংসী আগুন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলের দু'টি ইঞ্জিন পৌঁছয় ঘটনাস্থলে। বিধ্বংসী আগুনের জেরে ব্যাঙ্কের ভিতরে থাকা বেশিরভাগ জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। শর্ট সার্কিট থেকেই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা দমকল আধিকারিকদের। ব্যাঙ্কের ভিতরে থাকা জিনিসপত্র, কাগজের কতটা কী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। আগুনের গ্রাসে ব্যাঙ্কের ভিতরে থাকা নথিপত্র এবং অন্যান্য জিনিসের যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেই অনুমান।
তিলজলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
তিলজলায় ঘটেছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। বেআইনি বাড়ির নীচে ছিল বেআইনি কারখানা। সেখানেই বীভৎস আগুন লেগেছিল মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩ জন। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে খবর। এই ঘটনায় তৎপর রাজ্য সরকার এবং পুরসভা। ইতিমধ্যে কারখানার মালিক এবং ম্যানেজারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, বুধবার বিকেলে পুরসভার তরফে বুলডোজার এনে ওই কারখানা এবং সংলগ্ন ২টি বাড়ি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করেছে।
এই ঘটনায় জানা গিয়েছে, ওই বাড়িতে ছিল চামড়ার কারখানা। ব্যাগ তৈরি হতো সেখানে। তাই মজুত ছিল প্রচুর পরিমাণে ফোম। এর জেরেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে। তিলজলার 'ডেল্টা লেদার কমপ্লেক্স' কারখানায় রয়েছে জোড়া গেট। মেইন গেটের সামনে ফোম রাখা থাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন। এই আগুনের জেরে মেইন গেট দিয়ে বেরোতে পারেননি কর্মীরা। কারখানার দ্বিতীয় গেটেও ঝুলছিল তালা, আটকে পড়েন কর্মীরা। কাজের মাঝে যখন তখন কর্মীদের বেরনো রুখতে বন্ধ থাকে এই দ্বিতীয় গেট। ধোঁয়ায় তৈরি হয় দমবন্ধ করা পরিস্থিতি। প্রবল শ্বাসকষ্ট নিয়ে কোনওমতে শৌচালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন কর্মীরা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩ জন। পুলিশ, দমকল এবং প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে, তিলজলায় যে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে তা ভয়ঙ্কর। নিমেষেই পুরো জায়গাটা মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছিল।
একটা এমন জায়গা যেখানে অগ্নি নির্বাপনের কোনও ব্যবস্থা নেই, অগ্নি সুরক্ষা বিধি নেই, বদ্ধ জায়গা, প্রচুর দাহ্য পদার্থে ঠাসা, আগুন লেগে পুরো জায়গায় দাউদাউ করে জ্বলছে, ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছে - অথচ সেখান থেকে বেরনোর কোনও রাস্তা নেই। একটা গেটের সামনে আগুন জ্বলছে। আরেকটা গেট তালাবন্ধ, যাতে যখন তখন কর্মীরা কাজ ফেলে বেরিয়ে যেতে না পারেন। কার্যত মৃত্যুকূপ ছিল এই কারখানা।
