পার্থ প্রতিম ঘোষ, দক্ষিণ ২৪ পরগণা: প্রশাসনের নির্দেশে আমতলায় (Amtala) সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) অফিসে চলল বুলডোজার। অবৈধভাবে নির্মিত ওই ৫তলা অফিসের সামনের অংশ যখন ভাঙছিল বুলডোজার, সেই সময় বিক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারাও তাঁর অফিসে ঢুকে পড়েন। এবং ক্ষোভ উগরে দিতে থাকেন। হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর চালান বহু স্থানীয় বাসিন্দা। ওই অফিসের দোতলা থেকে নীচে ফেলা হয় একখানা ল্যাপটপ। কী রয়েছে ওই ল্যাপটপে? কী বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা?

Continues below advertisement

অভিষেকের অফিস থেকে এক ব্যক্তিকে দেখা যায় বগলদাবা করে একটি ল্যাপটপ নিয়ে একপ্রকার ছুটে যেতে। সংবাদমাধ্যম যখন সেই ব্যক্তিকে প্রশ্ন করেন ল্যাপটপটি নিয়ে, সেই সময় তিনি উত্তরে বলেন, 'আমাদের সন্দেহ আছে, এই ল্যাপটপে কিছু থাকতে পারে। গরু পাচারের কিছু তথ্য থাকতে পারে বলে আমাদের সন্দেহ। এই ল্যাপটপ আমরা পুলিশের হাতে তুলে দেব।' নিজেকে সাধারণ কর্মী বলে পরিচয় দেন ওই ব্যক্তি। তিনি জানান, তাঁদের কর্মীরা তাঁকে ওই ল্যাপটপ দিয়েছে। এরপর ওই ব্যক্তি বলেন, 'ওপর থেকে কেউ ল্যাপটপটা ফেলে। আমি কুড়িয়ে পেয়েছি। আমি বিষ্ণুপুর থানার স্যারের হাতে এটা আমি তুলে দিচ্ছি।'

মোট তিনখানা বুলডোজার নিয়ে আসা হয়েছে অভিষেকের আমতলার কার্যালয়ের সামনে। পুলিশের পক্ষ থেকে গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় অভিষেকের আমতলার অফিস। তারপরই শুরু হয়ে যায় বুলডোজারের অ্যাকশন। ধীরে ধীরে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিষেকের ৫ তলা কার্যালয়। প্রশাসনের কাছে বেআইনিভাবে ৫ তলা কার্যালয় তৈরির অভিযোগ জমা পড়ে। এর আগে শুনানির জন্য ৩০ জুন ও ৭ জুলাই জোড়া নোটিস পাঠানো হয়।

Continues below advertisement

অভিষেকের অফিসের গেটের চেন, তালা কেটে ভেতরে ঢোকেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। অপরদিকে বুলডোজার অ্যাকশনের পাশাপাশি যেভাবে স্থানীয়রা অভিষেকের অফিসে ঢুকে পড়েন। এবং ভাঙচুর চালান, তাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এরপর পুলিশ স্থানীয়দের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এক স্থানীয় বিজেপি নেত্রী বলেন, 'এখান থেকে ক্রিমিনালের জন্ম হত। এখান থেকেই মহিলাদের নিয়ে চক্রান্ত চলত। এটা জনগণের লড়াই। পার্টির কোনও উত্তরীয় ব্যবহার চলবে না। কোনও পার্টির রাজনৈতিক রং এখানে চলবে না।'

আমতলায় বুলডোজার অ্যাকশনের মধ্যেই দেখা যায় তৃণমূল নেতাকে তাড়া করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যকে ধাওয়া করেন স্থানীয়রা।