সমীরণ পাল, উত্তর ২৪ পরগনা : মেমারিতে দম্পতি খুনের ঘটনায় বনগাঁ কানেকশন। মা-বাবাকে গলার নলি কেটে নৃশংসভাবে খুন করে, বনগাঁয় এসে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠল ইঞ্জিনিয়ার ছেলের বিরুদ্ধে। বনগাঁয় ৪ জনকে কোপানোরও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় ধৃত হুমায়ুন কবীর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে নয়ডার একটি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে মেমারিতে মা-বাবার সঙ্গে থাকতেন ওই যুবক। পুলিশ সূত্রে খবর, মা-বাবাকে খুন করে অভিযুক্ত বনগাঁয় পালিয়ে আসেন। গতকালের ঘটনার পর এলাকা থমথমে। স্থানীয়দের চোখে মুখে এখনও আতঙ্ক। তাঁদের দাবি, কুঠার হাতে হামলা চালান অভিযুক্ত হুমায়ুন কবীর। কেউ তাঁর কাছে ঘেঁষতে পারছিল না। হুমায়ুনকে আগেও এই এলাকায় দেখা গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে মা-বাবাকে খুনের পর বনগাঁ হয়ে বাংলাদেশে পালানোর ছক কষেছিলেন হুমায়ুন? খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত যুবককে। পুলিশ সূত্রে খবর, হুমায়ন দাবি করেছেন তাঁর মা-বাবা গরিব মানুষদের দেখতে পারতেন না। গরিবদের কাজের লোক বলে সম্বোধন করতেন। তাই মা-বাবাকে খুন করেছেন তিনি। 

পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে জোড়া খুন। প্রৌঢ় দম্পতিকে নৃশংসভাবে গলার নলি কেটে খুনের পর দেহ বাড়ির সামনে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। বুধবার সকালে উদ্ধার হয় ২ জনের দেহ। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন দম্পতির ছেলে। স্বভাবতই সন্দেহ হয় তাঁকে ঘিরে। উঠতে থাকে নানা প্রশ্ন।  মেমারির কাশিয়াড়া কাজিপাড়ার বাসিন্দা ৬৬ বছরের মুস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী ৫৬ বছরের মমতাজ পারভিন ছেলেকে নিয়ে এই বাড়িতে থাকতেন। ছেলে বি টেক পাস, কাজ করতেন দিল্লির একটি কোম্পানিতে। স্থানীয় সূত্রে খবর, মাস তিনেক আগে নিখোঁজ হয়ে যান ছেলে। মাস দু'য়েক আগে মুস্তাফিজুর ছেলেকে খুঁজে আনেন। তারপর থেকে মা-বাবার সঙ্গেই মেমারির বাড়িতে থাকতেন ছেলে। বুধবার সকালে বাড়ির সামনে রাস্তার ওপর দম্পতির রক্তাক্ত দেহ পড়েছিল। দেহ উদ্ধারের পর থেকেই নিহত দম্পতির ছেলের ভূমিকা খতিয়ে দেখা শুরু করে পুলিশ। 

পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে বাবা-মাকে খুনের পর, বুধবার সন্ধেয় উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় এসে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে অভিযুক্ত হুমায়নের বিরুদ্ধে। হাতে কুঠার নিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ চালাতে থাকেন তিনি। এই ঘটনায় জখম হন ৪ জন। অভিযুক্তকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে বনগাঁ থানা চত্বরে ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এই ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের আজ আদালতেও পেশ করা হয়েছে।